শাকসুতে ভিপি পদে শিক্ষার্থীদের অধিক পছন্দ মুহুয়ী শারদ
Led Bottom Ad

শাকসুতে ভিপি পদে শিক্ষার্থীদের অধিক পছন্দ মুহুয়ী শারদ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৭/০১/২০২৬ ১৭:১৯:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে এগিয়ে রয়েছেন ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের প্রার্থী মুহুয়ী শারদ। নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ ও সক্রিয় প্রচারণার কারণে তিনি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।


এর আগে শাকসু নির্বাচন ঘিরে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতে কেটে যায় অনিশ্চয়তা। স্থগিত হওয়া পূর্বঘোষিত তপশিল ফের অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানানো হয়, নির্ধারিত আচরণবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ভোট গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকছে না।


অনুমতি পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েন। তবে সময় স্বল্পতার কারণে প্রচারণায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন একাধিক প্রার্থী। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহুয়ী শারদ দ্রুত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পারায় আলোচনায় উঠে এসেছেন। তাছাড়া দল-মতের উর্ধ্বে উঠে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব নেতা হিসেবে তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেন। 


মুহুয়ী শারদ বলেন, “অনিশ্চয়তার কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ে তপশিল ও ইশতেহার ঘোষণা করতে পারিনি। এখন হাতে খুব কম সময়। প্রায় ৯ হাজার ভোটারের কাছে যেতে হবে। তবুও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছি, তা আমাদের আশাবাদী করছে।” তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।


এর আগে গত সোমবার জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের সব নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা সংবলিত ইসির একটি প্রজ্ঞাপনের কারণে শাকসু নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরদিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং বুধবার প্রার্থীরা নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অনুমতির জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার রাতে ইসি প্রজ্ঞাপন জারি করে।


ইসির সিদ্ধান্তে প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রচারণার সময় হারানোর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অনেকের। ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “কয়েক দিন প্রচারণা করতে না পারায় আমাদের কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। এখন সময় খুব কম, তাই ব্যস্ততা বেশি।”


অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলামও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিক প্রচারণা ব্যাহত হয়েছে। তবে বাকি সময়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন পর শাকসু নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যেও যারা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি সমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে। এই দিক থেকে ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শারদ কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন তারা।


আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে শেষ মুহূর্তে কার পাল্লা ভারী হয়, সে দিকেই এখন নজর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad