সিলেটে পৃথক অভিযানে পিস্তল, পাঁচ এয়ারগান ও গ্রেনেড উদ্ধার
সিলেট ও আশপাশের জেলায় পৃথক অভিযানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী একটি ভারতীয় এয়ার পিস্তল, পাঁচটি এয়ারগান এবং একটি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
সিলেট নগরীতে ঝোপ থেকে একটি পরিত্যক্ত ভারতীয় এয়ার পিস্তল উদ্ধার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পুলিশ জানায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে জালালাবাদ থানার লন্ডনী রোড থেকে হাজীপাড়াগামী সড়কের পশ্চিম পাশে নূর মঞ্জিল নামের একটি বসতবাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালের বাইরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারসংলগ্ন ঝোপ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কালো-ছাই রঙের একটি পুরোনো ভারতীয় Globus এয়ার পিস্তল। সেটি সাদা রঙের পলিথিন ও কমলা রঙের একটি শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। পরে বিধি অনুযায়ী পিস্তলটি জব্দ করা হয়। এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে র্যাবের অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-৯, সিপিসি-২, মৌলভীবাজারের একটি দল বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাধবপুর ক্লাব বাংলা রোডের পাত্রখোলা শ্মশান এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এয়ারগানগুলো উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে র্যাবের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা এয়ারগানগুলো নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। র্যাব আরও জানায়, গত এক বছরে সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তারা ৩৬টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ম্যাগাজিন, ৬ হাজার ৩৩০ গ্রাম বিস্ফোরক, ৩৮টি ডেটোনেটর, একটি সাউন্ড গ্রেনেড, পাঁচটি পেট্রোল বোমা ও ৫৩টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের শিলাপাঞ্জা (জাতুকর্ণপাড়া) গ্রামে ওমানপ্রবাসী মো. মতিউর রহমানের বাড়িতে গ্রেনেডটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা বিষয়টি বানিয়াচং আর্মি ক্যাম্পকে জানান।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রেনেডটি উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত বস্তুটি একটি CCs-60 মডেলের টিয়ার গ্যাস হ্যান্ড গ্রেনেড। নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী টিম নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে গ্রেনেডটি ধ্বংস করে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র ও গ্রেনেড কীভাবে ওইসব স্থানে এলো এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: