সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম
‘ঘুসের এক টাকারও প্রমাণ পেলে চাকরি ছাড়ব’
সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম বলেছেন, “১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুস দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে চলে যাব। যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—১০ কোটি নয়, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ার সাহেবকে কেনা যাবে না। আমি দুর্নীতি করি না এবং করতেও দেই না। সুতরাং পাঁচ কোটি বা ১০ কোটি টাকা ঘুসের গুজবে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় এবং নির্বাচন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া এনসিপির প্রার্থী এহতেশাম হক মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তুলছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।”
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রার্থী মালেক ও রাশেদ নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের হোম অফিসে আবেদন করার রসিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু এহতেশাম হক দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সপক্ষে কোনো নথি বা রসিদ জমা দিতে পারেননি। তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি ব্যর্থ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।”
ডিসি সারওয়ার আলম আরও জানান, মালেক ও রাশেদের জমা দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেগুলো লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। “পরবর্তীতে যদি প্রমাণিত হয় যে তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তাহলে নির্বাচিত হলেও তাদের সংসদ সদস্যপদ অবৈধ বলে গণ্য হবে,”—যোগ করেন তিনি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: