নদী ফায়ার স্টেশন না থাকায় সিলেট ও মৌলভীবাজারে বাড়ছে নৌ-দুর্ঘটনায় ঝুঁকি
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা নদীঘেরা হলেও এখানে কোনো নদী ফায়ার স্টেশন নেই। শুধু বিয়ানীবাজার নয়, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী মোট ৮টি উপজেলায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নি বা নৌ দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোনো নদী ফায়ার স্টেশন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌপথের যাত্রী-ব্যবসায়ীরা।
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া—এই আট উপজেলায় সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই ও মনু নদী প্রবাহিত হলেও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থায় বড় শূন্যতা রয়ে গেছে। কোনো নৌ দুর্ঘটনা ঘটলে ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দলকে সিলেট শহর থেকে যেতে হয়, ফলে উদ্ধারকাজে দীর্ঘ সময় লাগছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিয়ানীবাজারের কুশিয়ারা নদীতে গোসল করতে নেমে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। সিলেট থেকে ডুবুরি আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। একই ধরনের ঘটনা গত বছর জকিগঞ্জেও ঘটে, যেখানে পরদিন গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সি-গ্রেড ফায়ার স্টেশন দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নদীভাঙনে কুড়ারবাজার, শেওলা ও দুবাগ ইউনিয়নের অনেক এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারে না। ছোট গাড়ি ও পর্যাপ্ত পাম্পের অভাবেও সমস্যায় পড়ছেন দমকল কর্মীরা।
বিয়ানীবাজার ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা সুকুমার সিংহ জানান, সংকীর্ণ সড়কের কারণে অনেক ঘটনায় গাড়ি নেওয়া সম্ভব হয় না। গ্রেড উন্নয়ন ও ছোট পানিবাহী গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নদী ফায়ার স্টেশন থাকলে নৌদুর্ঘটনা ও তীরবর্তী অগ্নিকাণ্ডে দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিয়ানীবাজারে নদী ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হলে আশপাশের অন্তত চারটি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: