মৌলভীবাজার-৪ আসনে কোটিপতি তিন প্রার্থীর বিপরীতে এনসিপির প্রীতম দাশ
Led Bottom Ad

মৌলভীবাজার-৪ আসনে কোটিপতি তিন প্রার্থীর বিপরীতে এনসিপির প্রীতম দাশ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৪/০১/২০২৬ ২০:১৭:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনটি এবার সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নানা কারণে আলোচনায়। এ আসনে বিএনপি ও ১০ দলীয় জোটের পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতা কোটিপতি। বিপরীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাশের বার্ষিক আয় মাত্র ৭২ হাজার টাকা—যা নির্বাচনী হলফনামায় উঠে আসায় ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজি মুজিব ব্যবসা ও কৃষি থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে কমলগঞ্জ ও ঢাকায় দুই কোটি ২১ লাখ টাকার দুটি বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাট, বিবি স্টেডিয়াম সুপারমার্কেটে ছয়টি দোকান এবং এক কোটি ৫১ লাখ টাকার কৃষিজমি। তাঁর স্ত্রীর নামেও রয়েছে বিপুল সম্পদ। হাজি মুজিবের বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ আছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া পেশায় ব্যবসায়ী। অষ্টম শ্রেণি শিক্ষিত এই প্রার্থী বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা। তাঁর নামে রয়েছে চার কোটির বেশি টাকার জমি, নয় কোটির বেশি টাকার বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং ১২ কোটির বেশি টাকার কোম্পানি শেয়ার। তাঁর বিরুদ্ধেও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রব পেশায় শিক্ষক ও আইন পরামর্শদাতা। তাঁর বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। সিলেট ও কমলগঞ্জে তাঁর নামে রয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকার জমি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি।

অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ হলফনামায় কৃষিকেই আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ৭২ হাজার টাকা। নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অল্প। তাঁর বিরুদ্ধেও একটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও তিনি ১১টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, একই আসনে প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের এমন বৈষম্য নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কেউ দেখছেন অর্থনৈতিক সামর্থ্যের প্রতিযোগিতা, কেউ আবার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তুলছেন। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, এই বৈপরীত্য ততই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad