কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বাঁচাতে কমলগঞ্জে মণিপুরি সংস্কৃতির মিলনমেলা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও এর প্রসারে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার আদমপুর ইউনিয়নের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে লৈশেমপুং ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মণিপুরি ঐতিহ্যের প্রতীক উত্তরীয় পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ওজা বীরেন্দ্র সিংহের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের কালচারাল হেড কিযী তাহনিন। তিনি বলেন, মণিপুরি সংস্কৃতি শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বব্যাপী অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। ডিজিটাল যুগে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনেস্কো কনসালটেন্ট রিফাত মুনিম এবং পারসিডের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফাতিহা পলিন। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মণিপুরি ভাষা, পোশাক ও ইতিহাস সংরক্ষণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে মণিপুরি শিল্পীরা তাদের চিরায়ত সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরেন। পরিবেশনায় ছিল বিশ্বখ্যাত মণিপুরি নৃত্য, বীরত্বগাথার প্রতীক থাং-টা বা মণিপুরি মার্শাল আর্ট এবং আধ্যাত্মিক আবহে ভরপুর পুং চোলম বা মৃদঙ্গ নৃত্য।
কর্মশালায় স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গুণীজনরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, লৈশেমপুং ও ইউনেস্কোর এই যৌথ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে এবং ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন প্রেরণা জোগাবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: