মৌলভীবাজারে চা বাগানে শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত শ্রমিকরা, নেই শীতবস্ত্র
Led Bottom Ad

মানবেতর দিন যাপন

মৌলভীবাজারে চা বাগানে শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত শ্রমিকরা, নেই শীতবস্ত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৬/১২/২০২৫ ২৩:২৭:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগানগুলো গাছগাছালি ও সবুজে ঘেরা হওয়ায় এখানে শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। মৃদু বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড ঠান্ডায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চা শ্রমিকরা। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী বাগান কর্তৃপক্ষ শীত নিবারণের জন্য চটের বস্তা বিতরণ করলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের এসব শ্রমিক পরিবারগুলো শীতে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়তে শুরু করেছে।

চা শ্রমিকরা জানান, দৈনিক স্বল্প মজুরির কারণে অধিকাংশের পক্ষেই গরম কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শীত নিবারণের জন্য কেউ ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহান, কেউ বস্তা বা খড় বিছিয়ে রাত কাটান। চা বাগানগুলোতে বাগান পঞ্চায়েত, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্বচ্ছল পরিবার তুলনামূলক ভালো থাকলেও প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক মহিমা রানী ও আদরমনি মৃধা বলেন, “দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে পাঁচ-সাত সদস্যের সংসার চালানোই কঠিন। নুন আনতে পান্তা ফুরায়, গরম কাপড় কেনা তো দূরের কথা। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শীতের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে।”

তারা আরও জানান, কেউ খড়কুটো বিছিয়ে ঘুমান, কেউ বস্তা ব্যবহার করেন, আবার কেউ আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করেন।

শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন ও চা শ্রমিক সংঘের নেতা রাজদেও কৈরী বলেন, “শীত এলেও বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে কোনো শীতবস্ত্র বিতরণ করে না। আগে চটের বস্তা দেওয়া হতো, এখন সেটিও বন্ধ। ফলে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম কষ্টে রয়েছে।”

এদিকে শীত বাড়লেও চা বাগানগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ডিসপেনসারিগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে চা বাগান এলাকার শ্রমিকদের মধ্যে সর্দি, কাশি ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দিন দিন বাড়ছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad