সিলেটের বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ
Led Bottom Ad

সিলেটের বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ঢুকছে ভারতীয় পেঁয়াজ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১০/১২/২০২৫ ২০:৫৮:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে ঢুকছে। স্থানীয় একটি সংগঠিত চোরাচালানি চক্র সীমান্তপথ ব্যবহার করে এই পেঁয়াজ সিলেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে—ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ ব্যবসায়ীরাও।


স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তপথে পেঁয়াজ ঢোকার পর তা প্রথমে সালুটিকর বাজার এলাকার কয়েকটি গোপন গুদামে পৌঁছায়। গুদামগুলো সাধারণ পণ্যের দোকানের পেছনে বা আবাসিক বাড়ির অংশে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে এসব পেঁয়াজ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন বাহনে করে সিলেট নগরের পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।


তদন্তে উঠে এসেছে, চোরাচালান চক্রটি স্থানীয় ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানচালকদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দিয়ে কাজে লাগায়। একজন চালক প্রতিটি ট্রিপে ১৮০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বহন করেন। একটি ট্রিপ শেষে তাঁরা প্রায় এক হাজার টাকা পান। অনেকেই জীবিকার তাগিদে বিষয়টি ঝুঁকি জেনেই করেন।


চালকদের পরিচয় গোপন রাখতে তাদের ক্ষুদ্র সবজি–ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ দেওয়া হয়। সালুটিকর বাজার থেকে প্রতি ১০ থেকে ১৩ মিনিট পর পর একটি ঠেলাগাড়ি বা ভ্যান ছাড়ে। এসব যান প্রধান সড়ক ছাড়াও উপসড়ক, গ্রামীণ রাস্তা ও বিকল্প পথ দিয়ে নগরে ঢোকে।


ঢোকার পর ঠেলাগাড়িগুলো নগরের যে সব পয়েন্টে পেঁয়াজ সরবরাহ করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আম্বরখানা, সুবিদবাজার, বন্দরবাজার, কালিঘাট এবং কদমতলী। একেকটি এলাকায় নির্দিষ্ট দালাল–নিয়ন্ত্রিত লাইন রয়েছে। তারা পণ্য গ্রহণ করে পাইকারদের হাতে তোলে। নগরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।


চোরাচালানকারীরা নিয়মিত কৌশল পাল্টে ফেলে। কখনো মোটরচালিত ভ্যান, কখনো ফল–সবজি পরিবহনের ঠেলাগাড়ি আবার কখনো মালবাহী রিকশা ব্যবহার করা হয়। একই ব্যক্তি যেন বারবার শনাক্ত না হন—এজন্য প্রতিদিন চালক বদলেরও চেষ্টা চলে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রের আড়াল থেকে সমন্বয় করে থাকেন।


স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ ঢোকার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লেই চোরাচালানকারীরা আরও বেশি সক্রিয় হয়।


এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে আমদানিকৃত বা স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা পেঁয়াজ বিক্রি করে এমন ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। দাম অস্থির হয়ে পড়ছে বাজারেও।


সচেতন মহল ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিছানাকান্দি সীমান্তপথে কার্যকর নজরদারি, সালুটিকর বাজারের গোপন গুদামগুলোতে নিয়মিত অভিযান এবং নগরে প্রবেশমুখে কঠোর চেকপোস্ট স্থাপন জরুরি। তাঁদের মতে, এই চক্র নিয়ন্ত্রণে না আনলে পেঁয়াজবাজার স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad