ঝলমলে রোদে হাসি ফুটেছে হাওরের কৃষকের মুখে: ধান শুকাতে ব্যস্ত সময়
উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে হাওরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত সূর্যের। বুধবার (৬ মে) সকাল থেকেই সুনামগঞ্জের আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকেরা। বৃষ্টিতে ভেজা ও তলিয়ে যাওয়া ধান কাটা এবং রোদে শুকানোর কাজে এখন হাওরজুড়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক সমিরন শর্মা জানান, ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে তিনি ৭ কেদার জমির ধান কাটতে পেরেছিলেন। তবে তাঁর আরও ৫ কেদার জমি এখনও পানির নিচে। ভেজা ধানের প্রায় চার আনা অংশে অঙ্কুর গঁজিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। টানা কয়েক দিন রোদ থাকায় সেই ধান শুকিয়ে কিছুটা রক্ষা করতে পেরেছেন। তবে শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারী বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
একই হাওরের আরেক কৃষক শিপন জানান, রোদ না ওঠায় কেটে রাখা ধানের অর্ধেকই পচন ধরেছিল। সেই পচা ধানই এখন রোদে শুকাচ্ছেন তিনি, যা পরে হাঁসের খাবার হিসেবে বিক্রি করবেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, "কৃষি পেশায় এখন আর লাভ নেই, বিকল্প কিছু ভাবার সময় এসেছে।" আরিতোষ বর্মন নামের আরেক কৃষক জানান, ৪ কেদার জমির ধান অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো আলাদা করে বস্তাবন্দি করছেন হাঁসের খামারিদের কাছে বিক্রির জন্য।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, খরচার হাওরে আবাদকৃত ৩ হাজার হেক্টর জমির বেশির ভাগ ধানই কাটা শেষ হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছু ধান নষ্ট হলেও রোদ ওঠায় কৃষকেরা এখন স্বস্তি নিয়ে বাকি কাজ সারছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, কৃষকেরা এখন দ্রুতগতিতে ধান কাটছেন এবং ভেজা ধান শুকিয়ে নিচ্ছেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) সমর কুমার পাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে গতকালই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৪০০ জন কৃষককে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: