ওসমানীনগরে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ
Led Bottom Ad

ওসমানীনগরে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওসমানীনগর

০৭/০৫/২০২৬ ০০:২২:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ওসমানীনগরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বসতবাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দকৃত ৬০৩ বস্তা জিরার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের ভাইকে আটক করা গেলেও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এই অভিযান চালায়। অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়ি থেকে ১৮ হাজার ৯০ কেজি ওজনের এই বিশাল জিরার চালান উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর গায়ে ভারতীয় গুজরাটের ‘উনঝা’ এলাকার মসলা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সিল ও ঠিকানা পাওয়া গেছে।

অভিযানের মাত্র তিন দিন আগে বাড়ির মালিক আব্দুল হামিদ যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তল্লাশির সময় তাঁর ভাই আবুল কালাম আজাদকে (৪৪) আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় হামিদের ছোট ভাই আব্দুল মুমিনসহ আরও ৭-৮ জন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান ও মজুত করে আসছে। এই ছায়া সিন্ডিকেটে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কথা আলোচিত হলেও পুলিশ এখনো পুরো নেটওয়ার্কটি চিহ্নিত করতে পারেনি।

এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মালামাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিক আব্দুল হামিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, “চোরাচালান ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আমাদের আপসহীন অবস্থান রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার জানান, পুরো চোরাচালান নেটওয়ার্কটি উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad