স্বাস্থ্য সচিবের আশ্বাস
অক্টোবরে ইনডোর চালু হচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেলে
দীর্ঘ আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের আউটডোর (বহিঃবিভাগ), আগামী অক্টোবরে মেডিসিনের ইনডোর (অন্তঃবিভাগ) এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। স্বাস্থ্য সচিবের সাথে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের মুখে আসা এই নতুন সময়সীমার কথা জানান সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের এমন লিখিত আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে কাজের ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন পুরোপুরি স্থগিত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সংকট নিরসন ও দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবিতে গত ২১ জুন থেকে ক্লাস বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন তারা। দাবি আদায়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং সড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার সকাল ৯টায় স্বাস্থ্য সচিবের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি উত্থাপন করলে মন্ত্রণালয় তাদের পূর্বঘোষিত ৩ মাসের মধ্যে হাসপাতাল চালুর অপারগতার বিষয়টি যৌক্তিক ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরে এবং একটি লিখিত রেজুলেশন পেশ করে। নতুন এই কর্মপরিকল্পনায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করার প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, আমাদের দাবি ছিল তিন মাসের মধ্যে সব চালু করা। কিন্তু অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক কিছু বাস্তবতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা আমাদের বুঝিয়েছেন। তবে তারা যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন, তাতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেনকে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালকের (ডেপুটি ডিরেক্টর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এখন থেকে হাসপাতালের উন্নয়ন ও চালুর প্রক্রিয়া তদারকি করতে তারা নতুন উপ-পরিচালকের সাথে নিয়মিত সমন্বয় করবেন।
সুনামগঞ্জের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল এই মেগা প্রকল্পটি (তৎকালীন নাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও কলেজ ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১,১০৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে তা আরও বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সম্পন্ন হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর মৌজায় ৩৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক ক্যাম্পাসে ৫০০ শয্যার মূল হাসপাতাল ভবন, কলেজ ভবন, অডিটোরিয়াম, ডরমিটরিসহ প্রায় ২০টি দৃষ্টিনন্দন ভবনের নির্মাণকাজ এখন শেষের দিকে। ২০২১ সালে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীরা এই নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাসে পদার্পণ করেন।
তবে বিশাল এই অবকাঠামো থাকলেও বর্তমানে ৫টি ব্যাচের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন ধরে 'ক্লিনিক্যাল ক্লাস' (ব্যবহারিক শিক্ষা) থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত বছরও একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে দ্রুত হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এবার দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
প্রীতম দাস/ আর আর
মন্তব্য করুন: