সিলেটে সরকারি চাকরিতে আগাম অবসরের প্রবণতা বাড়ছে
Led Bottom Ad

দুই বছরে অক্ষমতা দেখিয়ে আবেদন করেছেন ১১০ জন

সিলেটে সরকারি চাকরিতে আগাম অবসরের প্রবণতা বাড়ছে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৮/১২/২০২৫ ১৮:৩৮:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে সরকারি চাকরিতে আগাম অবসরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতা দেখিয়ে গত দুই বছরে বিভিন্ন দপ্তর থেকে মোট ১১০ জন সরকারি চাকরিজীবী আগাম অবসরের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে শুধু ২০২৪ সালেই ৫২ জন আবেদন জমা দেন।

সরকারি বিধান অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরি শেষে স্বেচ্ছা অবসর নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এর আগেই অবসর নিতে হলে প্রয়োজন হয় শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার প্রমাণপত্র।

সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে ১৬ জন, ২০২৩ সালে ১৫ জন এবং ২০২৪ সালে ২৫ জনকে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণে অক্ষম ঘোষণা করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের অবস্থা যাচাইয়ের জন্য তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আবেদনের ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক বদরুল আমিন বলেন, “আবেদনের ধরণ দেখে কোন কোন বিভাগের চিকিৎসকের মতামত লাগবে তা নির্ধারণ করে বোর্ড গঠন করা হয়।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা, পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়া, চাকরির প্রতি অনাস্থা —এগুলোই আগাম অবসরের আবেদন বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম বলেন,“যেসব দপ্তরে জনবল কম, সেখানে কেউ আগাম অবসরে গেলে সেবাদানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বদরুল আলম শিপন বলেন, “ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কেউ আবেদন করলে তা ফৌজদারি অপরাধ। এসব ক্ষেত্রে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভুয়া নথি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ যেন এই সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য যাচাই ব্যবস্থা আরও কঠোর করা প্রয়োজন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad