সিলেটে সাদাপাথর লুটপাট: অভিযুক্তদের স্থাবর সম্পদের খোঁজে দুদক
Led Bottom Ad

সিলেটে সাদাপাথর লুটপাট: অভিযুক্তদের স্থাবর সম্পদের খোঁজে দুদক

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৮/১২/২০২৫ ১৭:২৩:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২৫ নভেম্বর ইস্যু করা এমন একটি চিঠি পৌঁছেছে সিলেট সিটি করপোরেশনে। এতে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির স্থগিত সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন এবং তেলিখাল ইউপি চেয়ারম্যান ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কাজী আবদুল ওদুদ আলফু মিয়ার নগর এলাকায় থাকা স্থাবর সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাদাপাথর এলাকায় অসাধু যোগসাজশে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্তদের সম্পদখতিয়ান পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ফোনে সাড়া দেননি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন জানান, দুদকের এমন চিঠি ইস্যুর বিষয়ে তিনি অবগত নন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমদাদ হোসেন চৌধুরী দাবি করেন, “সাদাপাথর লুটের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেন আমাকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, সেটাও জানি না। অভিযোগটি মিথ্যা।”

দুদকের একটি সূত্র জানায়, লুটপাটের শুরু থেকেই লুটকারীদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান চলছে। স্থাবর সম্পদসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রটি আরও জানায়, শুধু তিনজন নয়—অভিযুক্ত আরও অনেকের বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদক জানায়, সাদাপাথর লুটপাটে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রভাবশালীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। উপপরিচালক মো. রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম এ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি দল সাদাপাথর এলাকায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায়। এ অভিযানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪২ জন রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল। এতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবির নিষ্ক্রিয়তা ও সহযোগিতার কথাও উঠে আসে।

প্রতিবেদনে ছয়টি ক্যাটাগরিতে সংশ্লিষ্টতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে—বিএমডি, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এদিকে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ১৫ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার পর ১৩ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-৯ মো. সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে—তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান। ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন তেলিখাল ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওদুদ আলফু মিয়া।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad