সিলেট-৪: টানাপোড়েন, কোন্দল ও নতুন সমীকরণের আসন
Led Bottom Ad

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় আপসেটের সম্ভাবনা

সিলেট-৪: টানাপোড়েন, কোন্দল ও নতুন সমীকরণের আসন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৭/১২/২০২৫ ১০:১৬:২৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ–জৈন্তাপুর–গোয়াইনঘাট) দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আসন হিসেবে পরিচিত। স্বতন্ত্র সামাজিক-ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, শ্রমিক-নির্ভর অর্থনীতি আর দলীয় বিভাজন—সব মিলিয়ে এ আসনকে অন্যদের তুলনায় বেশ অনিশ্চিত করে তোলে। ৯১ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে পরিবর্তনের স্রোত দেখা গেছে এ আসনে।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালে তাকে হারিয়ে দেন বিএনপির শক্তিমান নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। তিনি বরাবর দুই আসনে নির্বাচন করায় সিলেট-৪ এ উপনির্বাচন হয় এবং সেখানেও জয় পান সাইফুর। ২০০১ সালে উত্থান ঘটে তরুণ ছাত্রনেতা ও গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন সেলিমের। তিনি হেভিওয়েট ইমরান আহমদকে ১৫ হাজার ভোটে হারিয়ে আলোচনায় আসেন। তবে ২০০৮ সালে ইমরান আবার আসন পুনরুদ্ধার করেন।

এরপর গত পনেরো বছরে জাতীয় নির্বাচন না হওয়ায় এ আসনে কোন দলের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী—তার সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের ধারাবাহিক উত্থান চোখে পড়ে।

জামায়াত–সমর্থিত জয়নাল আবেদীন: শ্রমিক রাজনীতির নেতৃত্ব

দলটি এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জয়নাল আবেদীনকে—দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান, জাফলংয়ের শ্রমিক সংগঠনের দীর্ঘদিনের নেতা। শ্রমিকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ–গোয়াইনঘাট–জৈন্তাপুরকে ‘সিলেটের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন।

বিএনপি: দুই প্রার্থীর কোন্দলে অস্থির সমীকরণ

বিএনপির টিকিট পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটির দুই বারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট নগরে তার জনপ্রিয়তা অপ্রতিরোধ্য। সিলেট-১ এ মনোনয়ন না পেয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে সিলেট-৪ এ প্রচারণা শুরু করলে দলের ভেতরে ‘বহিরাগত নাকি স্থানীয়’ বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী। মাঠে ব্যাপক শোডাউন ও প্রচারণা করায় তার সমর্থকরা আরিফুলের মনোনয়নকে নিপীড়ন হিসেবে দেখছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলও হয়েছে। দলীয় কোন্দল সামাল দিতে না পারলে বিএনপি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে—এমন ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এনসিপি: প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির নতুন মুখ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, প্রযুক্তিবিদ ও মার্কিন প্রবাসী রাশেল উল আলম—এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী। যোগ্যতা, শিক্ষা ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগে এগিয়ে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রচারণা এখনো তেমন শক্তিশালী অবস্থায় নেই। এ নির্বাচনে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রথমবারের মতো মাপা হবে।

অন্যান্য সমীকরণ

খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুফতি আলী আহসান উসামা ইসলামি জোট গঠিত হলে জয়নাল আবেদীনের পক্ষে আসন ছেড়ে দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্রগুলো।


সিলেট-৪ এ বর্তমানে তিন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও সমীকরণ স্পষ্ট। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন যদি আরও গভীর হয়, আর জয়নাল আবেদীন শ্রমিকদের ভোট ও জামায়াতের সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় আপসেটের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad