এবার এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা কমিটি নিয়েও বিতর্ক
Led Bottom Ad

এবার এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা কমিটি নিয়েও বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২৩/০৬/২০২৫ ১১:২৬:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাদক কারবারি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মীরা স্থান পেয়েছেন এসসিপির হবিগঞ্জ জেলা কমিটিতে। এ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে সংগঠনটি।  স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আদৌ কি এই দলটি জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, নাকি পুরনো দলবাজি ও সুবিধাভোগীদের আরেকটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে ।


বিশেষ করে, গণঅধিকার পরিষদ থেকে বহিঃষ্কৃত নেতা মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনকে করা হয়েছে যুগ্ম সমন্বয়কারী। এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হয়েছেন চুনারুঘাট সদর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী নোমান, একই উপজেলার ৩ নম্বর দেওরগাছ ইউপি যুবলীগ নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজুলল করিমকেও সদস্য করা হয়েছে। আরেক সদস্য জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জের একটি মদের পাট্টার মালিক এবং ‘পাট্টা নাসির’ নামে পরিচিত, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন এক জামায়াত নেতা।

আ খ ম  উস্তার মিয়া বাহুবল উপজেলা জাপার সেক্রেটারী এবং সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। তিনিও স্থান পেয়েছেন কমিটিতে। 


হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পলাশ মাহমুদ বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির যে কমিটি দেওয়া হয়েছে এটি জুলাই চেতনার পরিপন্থি। তিনি মনে করেন এই কমিটিরি পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। 


কমিটির সদস্য হারুন আল রশিদের অভিযোগ, তাকে না জানিয়েছে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এনসিপিতে তার নাম দেওয়া তিনি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। 


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, যদি এই ধরনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকে, তবে এনসিপি অচিরেই একটি অবিশ্বাসযোগ্য ও অকার্যকর সংগঠনে পরিণত হবে। একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দলটির সামনে সুযোগ ছিল নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার, কিন্তু বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন সেই আশাকে ধূলিসৎ করেছে।


জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় আদর্শ, নীতি কিংবা মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীকে উপেক্ষা করে বিতর্কিতদের স্থান দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।


হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী সামির সাকিব বলেন, প্রকৃতদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুর্নবাসন করা হয়েছে হবিগঞ্জ এনসিপির কমিটিতে। 


বীরমুক্তিযোদ্দা কাজী গোলাম মর্তুজার আশা, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেও এনসিপি জনগণের আস্থা হারাবে বলেই ধারণা করছেন তিনি।


এব্যাপারে কথা বলতে রোববার (২২ জুন) দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে সারজিস আলমের মুঠোফোনে একাধিকার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। 


নবগঠিত হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দীন তারেক বলেন, কমিটিতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলা হচ্ছে তারা কোন একসময় হয়তো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দলে না থাকায় জুলাই চেতনা ধারণ করে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এখানে কাউকে জোর করে কমিটিতে আনা হয়নি। 

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad