সিলেট-২: ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে লুনা
সিলেটের রাজনৈতিক আকাশে এখন যে নামটি আলোড়ন তুলছে—তিনি তাহসিনা রুশদীর লুনা। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী, যিনি বছরের পর বছর ধরে বুকের ভেতর আগুন আর অপেক্ষা নিয়ে বেঁচে আছেন। এবার সেই অপেক্ষা তাকে নিয়ে এসেছে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনের নির্বাচনের কেন্দ্রে। এই প্রথম—হ্যাঁ, প্রথম কোনো নারী এই আসনে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামছেন।
ইতিহাস একেবারে হাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছে। জিতলে শুধু এমপি হবেন না—এই আসনের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করবেন।
বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে এলাকা জুড়ে লুনার নাম যেন নতুন করে বেজে উঠছে। মানুষ তাকে শুধু প্রার্থী হিসেবে নয়—ইলিয়াস আলীর স্বপ্নের ধারক বলে মনে করছে। অনেকে বলছেন, ইলিয়াস সাহেবের জন্য একটাও ভোট কমানো পাপ।
মনোনয়ন নিয়ে প্রথম দিকে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে গুঞ্জন থাকলেও, কেন্দ্রীয় ঘোষণা সব দ্বিধা কাটিয়ে দেয়। এখন লুনার ক্যাম্প যেন হাঁটছে আত্মবিশ্বাসের সোনালি আলোয়। তবে তারা জানে—নির্বাচন শুধু আবেগ দিয়ে নয়, সংগঠন আর মাঠের কাজে জেতা যায়। তাই দিন-রাত দরজায় দরজায় ছুটছেন কর্মীরা।
একটাই লক্ষ্য—ইতিহাসটা এবারই গড়া হবে।
এই প্রশ্নেই এখন সিলেট-২ আসন সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত। কারণ ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার সেলাই করে ভোটযুদ্ধে নেমেছে।
জামায়াত চাইছে আট ধর্মভিত্তিক দলের এক বৃহত্তর সমঝোতা। সেই সমঝোতায় তারা কিছু আসন ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত। ফলে সিলেট-২ ঠিক কার হাতে যাবে—এটা এখনো ঝুলে আছে নির্বাচনী বাতাসে।
এই আসনটিতে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা হলেন, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান (দাঁড়িপাল্লা) – জামায়াত,মুহাম্মদ মুনতাসির আলী (ঘড়ি) – খেলাফত মজলিস,ড. মুফতি হাফিজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী (রিকশা) – বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এদের মধ্যে দু’জন ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে প্রচারণা করছেন। আর ক্বাসিমী যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তার ক্যাম্প চলছে পুরো গতিতে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেউই হাল ছাড়তে রাজি নন।
সিলেট-২ আসনের নির্বাচন এবার শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়—এটি আবেগ, ইতিহাস আর দায়বদ্ধতার এক ত্রিমুখী লড়াই। একদিকে লুনা—নিখোঁজ স্বামীর ছায়া, মানুষের আবেগ আর পরিবর্তনের আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারী। অন্যদিকে ধর্মভিত্তিক তিন দলের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা—যারা কাউকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয়।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: