অবশেষে সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ সেই ২৩ ভবন অপসারণের নির্দেশ
সিলেট ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক ভূমিকম্প ও আফটারশকের ঘটনায় নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়ছে। কখনো ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট, কখনো আবার সিলেট অঞ্চলের স্থানীয় ফল্ট থেকে কম্পন অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, নগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এসব ভবন অপসারণের কাজ শুরু হবে। তাঁর ভাষায়, অনেক ভবনে এখনো মানুষ বসবাস বা ব্যবসা করছেন—যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, শহরের বহু পুরোনো ভবনের নকশায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা নেই। ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও বহু আবাসিক ভবন।
এর আগে গত শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং অনেক মানুষ আহত হন। গতকাল শনিবারও সকাল ও সন্ধ্যায় তিন দফা কম্পন অনুভূত হয়।
২০১৯ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করেছিল। এর মধ্যে ৬টি সংস্কার করা হলেও ১৮টি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ তালিকায় সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মধুবন মার্কেট, সুরমা মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, রাজা ম্যানশন, নবপুষ্প-২৬/এ, আজমীর হোটেলসহ একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন আছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সংকীর্ণ রাস্তা ও উদ্ধারকারী দলের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা দুর্যোগ মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এসব বিষয়ও বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: