আসল–নকলে একাকার সিলেট-৪ আসন
Led Bottom Ad

বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আসল–নকলে একাকার সিলেট-৪ আসন

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬/১১/২০২৫ ১২:১৭:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে নির্বাচন-উত্তাপ বাড়ছে; সেই উত্তাপের সবচেয়ে প্রবল ঢেউ এখন আঘাত হেনেছে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-৪ আসনে। বিএনপি সিলেটের ১৪টি আসনে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলেও যেসব আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে বিতর্কিত ও সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আসন এখন নিঃসন্দেহে সিলেট-৪। নেতা–কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার—সবার মুখে একটাই প্রশ্ন: “এ আসনে আসল প্রার্থী কে? আর নকল কোনটি?”

মনোনয়ন তালিকায় ‘নেই’, অথচ মাঠে ‘তিনি’– আরিফুল হকের দাবিতে তোলপাড়

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তালিকায় না থাকলেও হঠাৎ করেই ঘোষণা দেন—

“আমিই সিলেট-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী।” এই এক বাক্যেই অচলাবস্থা নেমে আসে পুরো আসনে। তাঁর সমর্থকরা দ্রুত মাঠে নামে, পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় এলাকা, শুরু হয় শোডাউন ও সমাবেশ। মুহূর্তেই তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে।


আরিফুল হক দাবি করেন—ঢাকায় জরুরি তলবের পর তাঁর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়, এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে সিলেট-৪ পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কাজের প্রমাণ কোথায়? তিনি নিজেও কোনো দলীয় চিঠি দেখাতে পারেননি। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডও নীরব—এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।


দলীয় একটি সূত্র বলছে— আরিফুলকে প্রচারণায় অংশ নিতে বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি মনোনয়ন নয়। এই ব্যাখ্যাই বিভ্রান্তিকে আরও ঘনীভূত করেছে।


মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ক্ষোভ—“শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে” সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ ও হেভিওয়েট নেতারা সরাসরি অভিযোগ করছেন—

দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া নিজেকে ‘মনোনীত’ বলা শৃঙ্খলাভঙ্গ

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলেন—“দল মনোনয়ন না দিলে এমন প্রচারণা চলতেই পারে না। এটি বিএনপির নীতি-আদর্শের পরিপন্থী।”


একই সুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন—“স্পষ্ট করে বলছি, সিলেট-৪–এ এখনও কেউ মনোনীত নন। আমরা সবাই দলের পক্ষে কাজ করছি।”


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—“এক আসনে দুজন নিজেদের মনোনীত দাবি করলে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ে। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এটাই এখন হচ্ছে।”


হাকিম চৌধুরীর শক্তিশালী শোডাউন—তৃণমূলের ঢেউ

এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী প্রতিদিনই জনসমাগমে ব্যস্ত। ১৫ নভেম্বর গোয়াইনঘাট সদর বাজারে তাঁর গণসমাবেশ ছিল তৃণমূলের শক্তির এক অভূতপূর্ব প্রদর্শনী। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু হলে দেখা যায়—মুরব্বি, ব্যবসায়ী, আলেম, শিক্ষক, তরুণ–যুবক—এক স্রোতে রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল। সমাবেশে বক্তারা বলেন—“সংকট–দুর্দিনে মানুষের পাশে থেকেছেন হাকিম চৌধুরী। এই জনপদের রক্ত-মাটির সম্পর্ক তাঁর সঙ্গে।”


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে—“তৃণমূলের মধ্যে হাকিমের যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, তা এখন বিএনপি হাইকমান্ডের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ন বার্তা।”


আসল-নকল বিতর্কে আসন্ন ঝড়—ভোটারদের শঙ্কা-এতসব নাটকীয়তার ফলে সাধারণ ভোটাররা এখন গভীর শঙ্কায়—“পরিস্থিতি যে কোনো সময় ঘোলাটে হতে পারে।” চায়ের দোকান থেকে বাজার—সবখানে আলোচনা—একদিকে আরিফুলের দাবি,অন্যদিকে তৃণমূলের ঢেউ হাকিমকে কেন্দ্র করে,সঙ্গে জামান ও আরও প্রার্থীদের সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে সিলেট-৪ এখন অস্থির ও অগ্নিগর্ভ।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়—এ আসন এখন সিলেট রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত লড়াই। মনোনয়ন যারই হোক, মাঠ হবে অগ্নিপরীক্ষা।


যে কারণে সিলেট-৪ এখন সবচেয়ে আলোচনায়

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম ঘোষণা করেনি। আরিফুল হক চৌধুরীর একক দাবি বড় ধরণের বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। হাকিম চৌধুরীর গণশক্তি প্রতিদিনই বাড়ছে। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচারণায় সক্রিয়। ভোটাররা বলছেন—রাজনৈতিক উত্তেজনা যে কোনও সময় বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে।


ভোটারদের দাবি অনুযায়ী-এই মুহূর্তে সিলেট-৪ আসন একটি রাজনৈতিক রণাঙ্গন—যেখানে সিদ্ধান্ত একটাই নির্ধারণ করবে সবকিছু: হাইকমান্ডের ঘোষিত ‘আসল’ মনোনয়ন।’

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad