মৌলভীবাজারের ৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীতালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি
মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলার তিনটি আসনে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া, সভা-সমাবেশ ও শোডাউনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। এর ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা চাপে পড়তে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলার চারটি আসনে মোট ১২ জন নেতা মনোনয়নের আশায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ৩ নভেম্বর মহাসচিব ঘোষিত চার আসনের প্রাথামিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর প্রকাশ্যে বিরোধ কম দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ও অস্বস্তি বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে তিনটি আসনে নেতাকর্মীদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসে।
মৌলভীবাজার–১ (বড়লেখা–জুড়ী): এই আসনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, যিনি জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা। মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু বড়লেখার বাসিন্দা। এ আসনে বড়লেখায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৮ এবং জুড়ী উপজেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৭২। জামায়াতের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বড়লেখার বাসিন্দা হওয়ায় ‘এলাকাভিত্তিক ভোট ঝোঁক’ বিএনপির প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে দলের ভেতরেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া): এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এএনএম আবেদ রাজা, কুলাউড়া বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু, এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম। দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে শওকতুল ইসলাম শকুকে। মনোনয়নবঞ্চিত আবেদ রাজার অনুসারীরা ৯ নভেম্বর সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি জামায়াতের প্রার্থী, জেলা আমির প্রকৌশলী সাহেদ আলীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ): এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান এবং জেলা বিএনপি সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী। দল মনোনয়ন দিয়েছে মুজিবুর রহমানকে।
মনোনয়ন না পেলেও মহসিন মিয়া মধু জানিয়েছেন “দলীয় মনোনয়ন পাই বা না পাই, নির্বাচনে আছি, থাকব।” তাঁর মাঠে সক্রিয় থাকা ও সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থিতা এ আসনে অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়াতে পারে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর): এই আসনে পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানকে প্রার্থী করেছে। যদিও এই আসনে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই, তবে নাসের রহমান এখনো জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় না করায় তৃণমূলে অসন্তোষ দানা বাঁধছে বলে জানা গেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: