ঝুঁকি নিয়েই চলছে মানুষ
২২ কিলোমিটারজুড়ে গর্ত বিয়ানীবাজার–শেওলা–জকিগঞ্জ সড়ক
প্রতিদিন এই সড়কেই কেউ না কেউ পড়ে যান, উল্টে যায় কোনো রিকশা, আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স। বৃষ্টি হলে গর্তে জমে যায় পানি, শুষ্ক দিনে উড়ে ধুলা— দুই অবস্থাতেই একটাই দৃশ্য: কষ্ট, ক্ষোভ আর ক্লান্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস। এটাই এখন সিলেটের বিয়ানীবাজার–শেওলা–জকিগঞ্জ সড়কের বাস্তবতা।
একসময় প্রাণবন্ত এই সড়কটি এখন যেন মরণফাঁদ। সংস্কারের অভাবে ২২ কিলোমিটারজুড়ে গর্ত, ভাঙা রাস্তায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ আর যানবাহন।
সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের সঙ্গে সিলেট শহরের যোগাযোগের অন্যতম এই পথটি আজ জীবনের ঝুঁকির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কেউ এই সড়কের খোঁজ নেয় না। রোগী হাসপাতালে পৌঁছায় না, স্কুলের শিশুরা ধুলোয় ডুবে যায়, শ্রমজীবীরা সময়মতো কাজে যেতে পারে না।
জকিগঞ্জের সোনাপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. কুতবুল আলম কণ্ঠ ভার করে বলেন,“এই রাস্তাটা এখন মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন এই পথে মানুষ পড়ে যায়, গাড়ি উল্টে যায়। একজন অসুস্থ মানুষ যদি সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছায়, তার মৃত্যুর দায় কে নেবে?”
স্থানীয়দের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কটি অবহেলিত। ২০০১ সালে শেষবার পাকা করা হয়, এরপর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি। এখন তারা নিজেরাই গর্ত ভরাট করেন— কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ধসে পড়ে সব।
সম্প্রতি মাত্র ৫ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
গত ৮ অক্টোবর জকিগঞ্জের সর্বস্তরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে এলজিইডি সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী এ. জেড. এম. আহের বলেন, “সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি, সেটি সত্যি। তবে সংস্কারের জন্য প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন, কার্যাদেশ পেলেই কাজ শুরু হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—যে রাস্তায় এখন ধুলা আর যন্ত্রণার গল্প, একদিন সেখানে আবার জীবনের স্বস্তি ফিরে আসবে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: