নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন–সংকীর্ণ সড়ক–দুর্বল তদারকিতে বাড়ছে দুর্ঘটনা
সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কে ১০ মাসে ৬৪ মৃত্যু
৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুনামগঞ্জ–সিলেট আঞ্চলিক সড়কে ভয়াবহ হারে দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত ১০ মাসে এই সড়কে ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলাকায়। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীসহ স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ নিহত হয়েছেন এসব ঘটনায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরু সড়কে প্রশিক্ষণবিহীন চালক, অনিবন্ধিত সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এবং ট্রাফিক তদারকির দুর্বলতাই দুর্ঘটনার কারণ। সড়কের দুই পাশের ঝুলন্ত গাছের ডালপালা ও গর্তও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বাঁক ও মোড়ে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা না থাকায় সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটছে।
বিআরটিএ সুনামগঞ্জ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১টি দুর্ঘটনায় ৬৪ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন।
মাসওয়ারি তথ্য: জানুয়ারি: ১০ দুর্ঘটনা, নিহত ১২, আহত ৭,ফেব্রুয়ারি: ১২ দুর্ঘটনা, নিহত ১০, আহত ২৮,মার্চ: ৭ দুর্ঘটনা, নিহত ৮, আহত ৪,এপ্রিল: ৬ দুর্ঘটনা, নিহত ৬,মে: ২ দুর্ঘটনা, নিহত ২,জুন: ৫ দুর্ঘটনা, নিহত ৪, আহত ৫,জুলাই: ৮ দুর্ঘটনা, নিহত ৭, আহত ১৪,আগস্ট: ৫ দুর্ঘটনা, নিহত ৬, আহত ৫, সেপ্টেম্বর: ৫ দুর্ঘটনা, নিহত ৭, আহত ২।
সর্বশেষ ২৪ অক্টোবর ভোরে শান্তিগঞ্জে পর্যটকবাহী একটি বাস খাদে পড়ে মা–মেয়ে নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় মা–মেয়েসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
পরিবহন মালিক–শ্রমিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এই সড়কে পাঁচ সমিতির প্রায় ৫০০ পরিবহন এবং শতাধিক আন্তঃজেলা বাস চলাচল করে। এছাড়া প্রায় ৫,৩০০ বৈধ ও সমসংখ্যক অনিবন্ধিত সিএনজি–অটোরিকশা, ২০০ লেগুনা, ৫০০ কার–মাইক্রোবাস–হাইয়েস ও সমপরিমাণ ট্রাক–পিকআপ চলাচল করছে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কে।
বিভিন্ন দপ্তরের বক্তব্য
বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রাসেল জানান, সড়কে নিয়মিত অভিযান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম চলছে।
টিআইবির সনাকের সভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের ওসি মোহাম্মদ হানিফ মিয়া বলেন, বেপরোয়া গতি ও নিয়ম লঙ্ঘনই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ জানান, সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ শহরের ৪.৫ কিলোমিটার এবং শান্তিগঞ্জের ২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ‘লুকিং মিরর’ স্থাপনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি-দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ করতে হবে। চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাইসহ ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। মোড় ও বাঁকে লুকিং মিরর স্থাপন ও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: