দৃশ্যটি নি:সন্দেহে প্রশংসাবাদার্হ!
Led Bottom Ad

দৃশ্যটি নি:সন্দেহে প্রশংসাবাদার্হ!

দেবব্রত রায় দিপন

১৫/০৬/২০২৫ ০৪:৫৮:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সিলেটে মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। আর দুটি ভাগেই নের্তৃত্ব দিচ্ছেন দলীয় চেয়ারপার্সনের দুই উপদেষ্টা। এর একজন হলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং অপরজন খন্দকার আবদুল মোক্তাদির। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দু’জনই বেশ জনপ্রিয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে কোনরকম গোলযোগ না হলেও তির্যক মন্তব্য ছিল অনেকটা স্পষ্ট। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ছিলেন বিব্রত। ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রয়োজনে সেই বিএনপির নেতারা যখন এক মঞ্চে বসেন, তখন বিষয়টি আশা জাগায়। এতে একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি দলও হয় বেশ শক্তিশালী। সিলেটে শনিবার (১৪ জুন) এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। যেখানে দলের দুই গ্রুপের নেতাদের একই মঞ্চে বসার দৃশ্য ধরা পড়ে। দৃশ্যটি নি:সন্দেহে প্রশংসাবাদার্হ।


২৮ জুন সিলেট সফরে আসছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ঐদিন তিনি সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে এক সভায় মিলিত হবেন। এর আগে দলের মধ্যে জিইয়ে থাকা দ্বন্দ্ব-বিভেদ মেটাতে শুক্রবার সিলেটে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দলকে আরো শক্তিশালী করতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন ডা. জাহিদ।        


ওই বৈঠকের পরদিন শনিবার (১৪ জুন) সিলেটের ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভেদাভেদ ভুলে  সিলেটে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক মঞ্চে দেখা যায়। বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর পাশেই বসা ছিলেন চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্টানের ফাঁকে ফাঁকে তাঁরা একে অপরের সাথে কানে কানে কথাও বলছিলেন। দৃশ্যটিকে উপস্থিত অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এতে করে প্রশংসায় ভাসছে সিলেট বিএনপির নাম। সাথে উজ্জীবিত হচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। 


রাজনীতিতে ব্যক্তিত্বের সংঘাত থাকবে। তাছাড়া বৃহৎ একটি রাজনৈতিক সংগঠনে বিভক্তির ঘটনাও বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। তবে দলীয় স্বার্থে সবাইকে অভিন্ন থাকতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থকে পিছু ফেলে দলীয় স্বার্থে সকলকেই কাজ করতে হবে এক যোগে। এমন ত্যাগী মনোভাব না হলে দলীয় পরাজয় ঘটে। কিন্তু দল না থাকলে জেদ কিংবা ভেদাভেদ কোন কাজে আসবে না। একই সাথে পরাজয় ঘটবে ব্যক্তিত্বেরও। 


৫ আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জনগণ এখন থাকিয়ে বিএনপির দিকে। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়ে নির্বাচন হলে সরকার পরিচালনা করবে বিএনপি-এমনটি ধারণা দেশের অধিকাংশ মানুষের। তবে সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয়ভাবে জনস্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা। বিএনপি এই ভূমিকায় সফলতা দেখাতে পারলে, দেশ সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে অনেক দূর। এই তৎপরতা তৃণমূল থেকে শুরু হলে জয় হবে রাজনীতির, কল্যাণ হবে দেশের। যার ফল ভোগ করবে দেশের বিশ কোট জনগণ। বিএনপির দৃষ্টি এখনই সেই দিকে ধাবিত করা এখন সময়ের প্রত্যাশা। 


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad