সিলেটে করোনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে পুশইন
Led Bottom Ad

সিলেটে করোনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে পুশইন

নীরব চাকলাদার

১৩/০৬/২০২৫ ০২:০২:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

নতুন করে ফের দেখা দিয়েছে করোনার সংক্রমণ। এর বিস্তার বেড়ে চলেছে ক্রমেই। প্রাণঘাতি এই ভাইরাস রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষে করে চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতে এর সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে ভয়ঙ্কর ঝুকিঁতে রয়েছে সিলেট। অথচ এই অঞ্চলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও চোখে পড়ার মতো নয়। সর্বনাশা এই ঢেউ প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে সিলেট অঞ্চল। 


সিলেটের প্রতিটি সীমান্ত দিয়ে ঘটেছে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক পুশইন। যেহেতু ভারতে প্রকোপ বাড়ছে করোনার, সেক্ষেত্রে এই ঢেউ নির্বিঘ্নে হানা দিবে সিলেট অঞ্চলে। কারণ পুশইনকালে বিজিবির হাতে যারাই আটক হচ্ছে-তাদের কাউকেই কোয়ারেন্টিন না করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার বিষয়টি এই সময়কালে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে সময়টাতে ভারতে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে, সেই অবস্থায় পুশইন হওয়া বাংলাদেশিদের কোনোরকম পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়া থানা পুলিশে হস্তান্তর নি:সন্দেহে ভালো ফল নিয়ে আসবে না।


করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনপরিসরে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদের ছুটি থেকে ফেরা যাত্রীদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে হবে না; প্রতিটি জনপরিসরে এটি কার্যকর করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের ৮ টি হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু করণের কথা জানিয়েছে। তবে পরীক্ষার কীট এখনও সরবরাহ করা হয় নি। এ অবস্থায় সিলেটও এই কার্যক্রম শুরু করতে সময় লাগবে অঅরও ১০ দিন। সুতরাং সময়টা খুবই উদ্বেগের, আতঙ্কের এবং ভয়ঙ্কর। এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একের পর এক পুশইনের ঘটনা। 


দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর থেকে ভারত থেকে সারাদেশে বেড়ে চলেছে পুশইনের ঘটনা। সিলেট বিভাগে বেশ কয়েকটি সীমান্ত পথ থাকায় পুশইনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। একটি বেসরকারি তথ্যমতে, এ চলতি মাসের ১২ জুন পর্যন্ত সিলেটের সবকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের সংখ্যা সাতশো ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে-বেসামাল পরিস্থিতি সিলেটকে ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনই উচিত পুশইনকারী লোকদের কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর থানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এক্ষেত্রে বিজিবি সদস্যদের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে সবচে বেশি কার্যকর।  


আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা যে কত দুর্বল, সেটা বিগত করোনা মহামারির সময় হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেছে। করোনা পরীক্ষা থেকে চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এবারও যাতে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। আর কাজটি একা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নয়; জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সংস্থা ও বিভাগকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।


আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ করোনার বিস্তার ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আর জনসচেতনতার কাজটি করতে হবে সর্বস্তরে, সব খানে। প্রচারমূলক কাজে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad