কুলাউড়ায় আব্বাসীর মাহফিলে এমপিকে বক্তব্য না দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড়

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি

কুলাউড়ায় আব্বাসীর মাহফিলে এমপিকে বক্তব্য না দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড়

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৩/০৯/২০২৬ ১৫:১৭:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি ওয়াজ মাহফিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামকে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আলোচক ইসলামিক স্কলার এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এমপিকে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দলের ও এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যক্ত করে একটি প্রতিবাদী পোস্ট দিয়েছেন সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ মেহেদী। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া পোস্টটিতে তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে লেখেন:

"একজন সংসদ সদস্য শুধু আইনপ্রণেতা নন, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। এছাড়া নিজ এলাকায় তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। এলাকার ওয়াজ মাহফিল থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি সেই অনুষ্ঠানকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তোলে। যতটুকু জানি তিনি নিজেও একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী হুজুর যেভাবে মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলছেন, সেই তুলনায় সংসদ সদস্য একেবারেই নমনীয় হয়ে তাঁকে একটু সুযোগ দিতে বলেছেন। আমার মনে হয়েছে তিনি নমনীয় ও স্বাভাবিক থেকে নিজেকে সত্যিকার অর্থেই একজন মহৎপ্রাণ মানুষ হিসেবে আরও বেশি উঁচুতে নিয়ে গেছেন।"

পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "৫ মিনিট সুযোগ দিলেও এমন কী হয়ে যেত, আমি বুঝতে পারিনি। হয়তো তিনি তাঁর এলাকার মানুষের উদ্দেশে কিছু নসিহত তুলে ধরতেন। এর বাইরে নিশ্চয়ই কিছু নয়। আশা করি আব্বাসী হুজুর ভবিষ্যতে এ রকম বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।"

সাংবাদিক খালেদ মেহেদীর এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ সংসদ সদস্যের প্রতি আব্বাসী হুজুরের এমন আচরণের সমালোচনা করে বলছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সম্মান জানানো এবং দু-একটি কথা বলতে দেওয়া সৌজন্যতার মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মতে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির অপমান নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্বকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।

এ নিয়ে বর্তমানে মৌলভীবাজার ও সিলেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

হিফজুর রহমান/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad