সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে চোখে চুন,পা ভেঙে পঙ্গু করার নৃশংসতা!

সুনামগঞ্জে চুরির অভিযোগে চোখে চুন,পা ভেঙে পঙ্গু করার নৃশংসতা!

মোঃ মাসুদ রানা সোহাগ, নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

১০/০৯/২০২৬ ২২:৫৮:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আইন হাতে তুলে নেওয়ার চরম ও ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে উঠলো সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে। গরু চুরির অভিযোগে তিন যুবককে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালুর পর চোখে চুন ঢেলে অন্ধ করে দেওয়া এবং কুড়াল দিয়ে আঘাত করে পা ভেঙে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। সালিস বৈঠকের নামে জনসমক্ষে এ বর্বরতা চালানো হলেও পাশে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজারের কাছে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—দোয়ারাবাজারের বড়ইউড়ি গ্রামের আবু বক্কর (৩৫), পূর্ব গিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০) এবং ছাতক উপজেলার জোরাখানি গ্রামের সোনাই মিয়া (২৫)।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা যায়, শরীর অনাবৃত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছেন তিন যুবক। তাঁদের চোখ, নাক ও মুখ সাদা চুনে ভরা, আর যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তারা। একজনের ডান পা রক্তাক্ত ও চূর্ণবিচূর্ণ। পাশে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে দেখছেন শত শত মানুষ ও পুলিশ সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে গরু চুরির অভিযোগে প্রথমে সোনাই মিমাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে বাড়ি থেকে ধরে এনে সালিসে বসানো হয়। ইউপি সদস্য হানিফ আলী এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উত্তেজনার একপর্যায়ে তিনজনের ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। সালিস বোর্ডের সিদ্ধান্তেই কুড়াল দিয়ে আবু বক্করের পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং চিরতরে অন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনজনের চোখেই ঢেলে দেওয়া হয় চুন।

নির্যাতনের ভয়াবহতা ও সালিসের সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম ক্ষোভের সুরে সাফাই গেয়ে বলেন, "চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিস বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে—চোর ধরা পড়লে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিস বোর্ড তা দেখবে।"

চোখের সামনে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, তিনজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে মানুষকে চিরতরে পঙ্গু ও অন্ধ করে দেওয়ার এই রোমহর্ষক ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আইনের শাসনের নামে জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া এই বরবরতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad