২৮ বছর আগের ঘটনায়
প্রতারণার মামলায় হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের ৫ সদস্য আসামি
কানাডায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, জাল পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রয়াত রাজনীতিক হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (মোহাম্মদপুর আমলী আদালত) কাছে মামলাটি করেন রাজধানীর ডেমরা থানার হাজীনগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মমিনুল হক। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর স্ত্রী মেহজাবিন রশীদ চৌধুরী, ছেলে নোমান রশীদ চৌধুরী, পুত্রবধূ সাদিয়া বিলকিস চৌধুরী এবং দুই নাতি মাসুন নোমান রশীদ চৌধুরী ও মিনাল নোমান রশীদ চৌধুরীকে। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁরা সবাই বর্তমানে ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে নোমান রশীদ চৌধুরী তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বাদীর ছোট ভাই মো. মাসুদুল হককে স্বল্প খরচে কানাডায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ কয়েক দফায় বাদীর কাছ থেকে মোট ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার বিপরীতে মানি রসিদও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পরে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জাল মালয়েশিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করে মাসুদুল হককে তাঁর অজ্ঞাতসারে হংকং হয়ে কানাডায় পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। হংকংয়ে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে। সেখানে প্রায় চার মাস কারাভোগের পর বাংলাদেশ হংকং কনস্যুলেটের সহযোগিতা এবং নিজস্ব খরচে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় আসামিরা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পর গত ২৯ জুলাই পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাদী মোহাম্মদ মমিনুল হক।
আর আর
মন্তব্য করুন: