প্রসঙ্গ : বিশ্ব পরিবেশ দিবস
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারও দিবসটি পালিত হবে। দিবস আসে আবার দিবস চলেও যাবে। এই আসা-যাওয়ার মধ্যে হিসেব কষাটা সবচেয়ে বেশি জরুরী। পরিবেশ কী, এর সুরক্ষাই বা করতে হবে কেন,পরিবেশের সাথে মানুষের এতো নিবিড়তা থাকতে হবে কেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে পারলেই পরিবেশ দিবস পালনের যথার্থতা দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই। সময়ের সাথে সাথে মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবেশকে ধ্বংস করছে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে। পরিবেশের সাথে সুন্দর সহাবস্থানের পরিবর্তে পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা আমাদের অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। কারণ পরিবেশ হলো এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যা জীব এবং তাদের চারপাশের জড় উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। সহজ ভাষায়, পরিবেশ বলতে বোঝায় মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহৃত হয় এবং তার সঙ্গে জীবজগতের ভারসাম্য বজায় থাকে। সুতরাং পরিবেশ বিপর্যয় মানেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়া।
পরিবেশের বিপর্যয় হলে পরিবেশও রুষ্ঠ হয়ে উঠে। রুষ্টতার জবাব বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে সংঘটিত করে। তাই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ও সহনশীল আচরণের মাধ্যমে পরিবেশকে মানুষ ও অন্য জীবের জন্য সহায়ক করে গড়ে তোলা অনিবার্য হয়ে পডেছে। এই অনিবার্য প্রয়োজনের তাদিগে তথা পরিবেশগত বিষয় সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ কতৃক স্টোকহোমে মানব পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনে প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষ যেন সকল প্রাণীকুলের সাথে সহায়ক পরিবেশে বাস করতে পারে এই উদ্দেশ্যেই পরিবেশ দিবস পালিত হয় পৃথিবীব্যাপী। পরিবেশে ধ্বংশ হলে মানুষসহ সকল প্রাণীকুলের জৈবিক ক্রিয়া কর্মের অন্যতম অন্তরায়। তাই সকল সৃষ্টি জগতের একমাত্র আবাসস্থল এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে।
প্রথম ডেস্ক :
মন্তব্য করুন: