অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা দিলেন সুনামগঞ্জের সেই আসির
হ্যান্ডকাফ হাতে নিয়ে চম্পট দিয়ে ফেসবুকে এসে 'একাই একশো' মার্কা ভাব মারা সেই বিখ্যাত ডিজিটাল ফেরারি আসামি আসির মিয়া (৩০) অবশেষে ধরাশায়ী! পুলিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করার শখ থাকলেও, শেষমেশ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের যৌথ গ্যাংয়ের 'সারপ্রাইজ ভিজিটে' ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টায় সুনামগঞ্জ শহরের পানসি রেস্টুরেন্টে খাবার টেবিল থেকেই তাকে কাবু করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসির মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোদরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার গুণধর ছেলে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলার ভারী ট্রফি রয়েছে।
ঘটনার গোড়ায় গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ এই বহু পরোয়ানাভুক্ত আসির মিয়াকে পাকড়াও করেছিল। কিন্তু আত্মীয়স্বজনের 'স্পেশাল হেল্পে' হাতকড়া সমেতই সটকে পড়ে সে। পালানোর পর ঠান্ডা মাথায় চুপচাপ না থেকে সোজা ফেসবুকে লাইভে এসে পুলিশের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলার মান-সম্মান নিয়ে দারুণ নাটক শুরু করে।
তবে এই সস্তা ডিজিটাল ভাব বেশিক্ষণ কাটেনি। জেলা পুলিশ সুপারের কড়া অ্যাকশনে মাঠে নামে ক্ষিপ্র ডিবি ও সদরের এক দুর্ধর্ষ দল। এসআই মাহমুদুল হাসান, এসআই মুকুল খান, এএসআই খাদেম, এএসআই রোশন এবং সদর থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম ও এসআই জহির হোসেনের কড়া নজরদারিতে পানসি রেস্টুরেন্টে খানা খাওয়ার সময়ই তার এই ‘লাইভ ড্রামা’র যবনিকাপাত ঘটে।
অভিযান প্রসঙ্গে সদর থানার ওসি রতন শেখ (পিপিএম) মুচকি হেসে বলেন, "অপরাধ করে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় 'হিরোগিরি' দেখিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ! আসামির ফালতু আস্ফালন আমাদের নিখুঁত চালের কাছে স্রেফ ফুস হয়ে গেছে। হাতকড়া নিয়ে পালালেও শেষ পর্যন্ত হাতকড়াতেই ফিরে আসতে হলো।"
আসির মিয়ার বিরুদ্ধের পুরনো মামলার বহর তো আছেই, সাথে নতুন এই কীর্তির কারণে এখন তাকে সোজা চালান করা হচ্ছে জেলহাজতের খাঁচায়।
প্রীতম দাস/ তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: