ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রথম ডেস্ক

০৩/০৯/২০২৬ ২০:০৬:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা জানায়, বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মুসলিম নগর এলাকার এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তাদের এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসার এক শিক্ষক ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে আটক করে রেখেছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার‌ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ থেকে বিষয়টি ফতুল্লা থানায় জানানো হয়। কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল আল আমিন এবং পুরো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করেন পুলিশ ডিসপ্যাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আহাদ (১৭) এক বছর আগে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় থেকেই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবারও শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তার মা বিষয়টি জানতে পেরে ছেলেকে চিকিৎসার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ছেলের কাছ থেকে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ জানতে পারেন। পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করলে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ স্বীকার করেন।

সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত মো. রফিকুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করে। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার বরুনদা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মুসলিম নগর এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad