স্কুলে ফোন ব্যবহার করলেই বহিষ্কার, সুনামগঞ্জে বিদ্যালয় প্রধানের ঘোষণা
বিদ্যালয়ে ফোন শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু ঘোষণা দিয়েছেন, স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী ফোন ব্যবহার করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক অ্যাসেম্বলি শেষে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধান শিক্ষকের এমন কড়া নির্দেশনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে ছাত্রদের উদ্দেশে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা আগামীকাল থেকে কোনো ছেলে স্কুলে ফোন সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবে না। স্কুলের গেটের ভেতরে ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবে না। যদি কারও কাছে ফোন পাওয়া যায় স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি–আগামী মাসের ১৫ তারিখ টেস্ট পরীক্ষা, সুতরাং তোমরা সতর্ক হয়ে যাবে।’
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কমিটির সদস্য আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকর্মী আবির হাসান মানিক, ব্যবসায়ী সারোয়ার ইবনে গিয়াস উপস্থিত ছিলেন।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ২১৮ জন। চলতি বছরে এই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয় ২১৩ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১০৯ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু বলেন, ফোনের আশক্তির কারণে ছাত্রদের লেখাপড়ায় মনোযোগ হ্রাস পাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছাত্রদের কাছে ফোন পাওয়া যায়। জব্দ করার পর অভিভাবকরা অনুরোধ করে নিয়ে যান। এবার ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্কুলের ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্র ফোন নিয়ে আসতে পারবে না। কারও কাছে ফোন পাওয়া গেলে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রীরা সাধারণত স্কুলে ফোন নিয়ে আসে না। তবু সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। আজ সকালে সবার উপস্থিতিতে ফোনের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়ায় মনোযোগী হোক। ভালো ফলাফল অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হোক।
শামসুল আলম আখঞ্জী / মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: