৩ বছরে বন্ধ হয়েছে ৪০৫ গার্মেন্টস কারখানা: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

৩ বছরে বন্ধ হয়েছে ৪০৫ গার্মেন্টস কারখানা: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রথম ডেস্ক

০৩/০৯/২০২৬ ১৭:০৮:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত তিন বছরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর বাণিজ্যিক সুবিধাকে এসব কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২৩টি সদস্য কারখানা বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা ৪০৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত ও সংগ্রহের কাজ এখনো চলছে।

কারখানাগুলো বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তার দেওয়া কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবও রয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তৈরি হওয়া তারল্য সংকটকেও কারখানা বন্ধের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে প্রভাব ফেলছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া বিদেশি ক্রেতারা নিজেদের তদারকি বা মনিটরিং সহজ রাখার জন্য ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোতে রপ্তানি আদেশ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও সংসদকে জানান তিনি।

তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রপণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সুবিধার বাইরে আরো শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা হিসেবে আরও শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী।

অন্যদিকে, একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

বাজারে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মজুদ করে রাখা, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা না টাঙানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশের মতো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতে এসব নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও সংসদকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad