সুনামগঞ্জে ১৫ যুবকের সলিলসমাধি: মামলার ২ মাস পরও অধরা মানবপাচারকারীরা

সুনামগঞ্জে ১৫ যুবকের সলিলসমাধি: মামলার ২ মাস পরও অধরা মানবপাচারকারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৭/২০২৬ ২৩:২৭:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

চলতি বছরের শুরুতে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় সাগরে ট্রলার ডুবে সুনামগঞ্জের ১৫ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১৫ জন যুবক সাগরে ডুবে মারা যান। তবে এই ভাগ্যহতদের মধ্যে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান জামালগঞ্জের লালপুর গ্রামের খুরশেদ মিয়ার পুত্র সুমন মিয়া। বর্তমানে তিনি লিবিয়ার একটি জেলহাজতে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আদম ব্যবসায়ী চক্রের মূল হোতা সুলতান সরদার ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগমকে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুমনকে ইতালিতে পৌঁছানো হয়নি। উল্টো এখন লিবিয়ার কারাগারে কাটছে তার বন্দি জীবন।

এই ঘটনায় সুমনের বড় ভাই সাজিবুর রহমান বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী চক্রের তিন সদস্য—সুলতান সরদার, তার স্ত্রী ঝরনা বেগম এবং সুলতান সরদারের পিতা শুকুর আলী সরদারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে জামালগঞ্জ থানাকে এফআইআর (FIR) দায়েরের পাশাপাশি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতাবেক গত ৮ মে জামালগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বাদী সাজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আদমপাচারকারীদের সর্বমোট ২৭ লাখ টাকা দিয়েছি, যার সব প্রামাণিক দলিল আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। একদিকে আমার ভাই লিবিয়ার কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে, তাকেও উদ্ধার করতে পারছি না; অন্যদিকে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।"

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ ঘোষ জানান, আসামিরা অন্য এলাকার হওয়ায় তাদের পিসিপিআর (PCPR) যাচাইসহ গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad