সিলেটে তীব্র সমালোচনা
একাধিক মামলার আসামি ও কারাবন্দীদের নিয়ে 'আশেকানে আউলিয়া'র কমিটি
সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিসহ একাধিক মামলার আসামিদের নিয়ে সিলেটে গঠন করা হয়েছে ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি। গত ১২ জুলাই সিলেট নগরীর উপশহরের ই-ব্লকে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে ৩৬০ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।
স্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই কমিটির মহাসচিব করা হয়েছে হাবিব সারোয়ার আজাদকে। তিনি নিজ এলাকা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে গণরোষের মুখে বিতাড়িত হয়ে বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন এবং তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ২ জুলাই রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বসুন্ধরা শপিং মল থেকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে, যারা বর্তমানে কারাবরণ করছেন।
কারাগারে থাকা এই দুই আসামি হলেন—মহাসচিব হাবিব সারোয়ার আজাদের ছেলে শিহাব সারোয়ার শিপু (যাকে কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে) এবং তার সহযোগী তোফায়েল আহমদে রয়েল (যাকে প্রচার সম্পাদকের পদে রাখা হয়েছে)। অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যের সিন্ডিকেট হোতা হিসেবে এই তিনজন (হাবিব সারোয়ার, শিপু ও রয়েল) অন্যতম অভিযুক্ত। ফলে অবিনাশী নদী ও পরিবেশ ধ্বংসের কারিগর এবং ফৌজদারি মামলার আসামিদের দিয়ে আধ্যাত্মিক ঘরানার এমন সংগঠন গঠন করায় শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে, সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আ ম ন জামান চৌধুরীকে নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক। সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে জেলা প্রশাসনের দেওয়া তালা নিয়ে আপত্তিকর ও অপ্রীতিকর মন্তব্য করার পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। কুমিল্লা থেকে আসা এই ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, মাজারের একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হীন স্বার্থ ও উদ্দেশ্য হাসিল করতেই তিনি তাদের হয়ে মাঠে নেমেছেন।
৩৬০ সদস্যবিশিষ্ট এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও যারা পদ পেয়েছেন তারা হলেন, ভাইস চেয়ারম্যান: বখতিয়ার আহমদ ইমরান, সেলিম আহমদ, সৈয়দ আছলাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম বিটু, সৈয়দ ময়না মিয়া, এ এম মাসুদ চৌধুরী, আবু জাফর মোঃ জমশেদ, মোঃ মুজিবুল হক চৌধুরী, মুহম্মদ ইলিয়াছ, মন্তাজ হোসেন মুন্না, মোঃ গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, বিদ্যা রত্ন রায়, মারুফ বখতিয়ার চৌধুরী, এস আলম আলমগীর, জাফরুল ইসলাম নূর চৌধুরী ও মোঃ ইউনুছ মিয়া।
যুগ্ম মহাসচিব: শহীদুল ইসলাম সুহেল, সুয়েব লস্কর ফখর উদ্দিন, হাজী মোঃ কসির মিয়া, মোঃ ফখর উদ্দিন, নূরুল ইসলাম সুমন, সিদ্দিকা চৌধুরী, এনাম হোসেন, বি এম এনাম চৌধুরী, শামীম আহমদ, সামির আহমদ, রেজাউল করীম লিটন, আলম আহমদ ও ইউসুফ আহমদ ইমন।
সাংগঠনিক সম্পাদক: টুনু তালুকদার, কদ্দুস শিকদার, ফয়সল আহমদ, নূরুল ইসলাম খান, শিহাব সরোয়ার শিপু (কারাগারে), তোফায়েল আহমদে রয়েল (কারাগারে), রাকিব আহমদ, খালেদ আহমদ, মীর মফিজুল ইসলাম ইমরান, মফিজ উদ্দিন সরকার, সাদেক আহমদ তাপাদার ও রুহুল শামীম খান।
প্রচার সম্পাদক: সাবের সালেহীন চৌধুরী, নিয়াজ খান, ডাঃ আজাদ জামিল আহমদ, শামীম আহমদ, আবিদ আহমদ ও শাহাব উদ্দিন মস্তফা জামাল।
দপ্তর সম্পাদক: এইচ এম আব্দুল হালিম, আশরাফ আহমদ, ফারুক আহমদ, সেতু আহমদ, বাবুল মিয়া, কুটন উদ্দিন হেলাল, কে আহমদ ও মীর কাউসার আহমদ।
কোষাধ্যক্ষ: মাওলানা আতাউর রহমান বঙ্গি ও ক্বারী মাওলানা মোঃ লাভলু। মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক: কামাল খান, হোসাইন আহমদ, বাহার উদ্দিন, আহমদ আল আনসার ও সুন্দর আলী। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: সালেহ আহমদ চৌধুরী, হেলাল আহমদ, মোঃ তৈয়বুর রহমান, মোঃ আব্দুর রহমান ও মোঃ দিলওয়ার হোসেন। আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক: কয়ছর উদ্দিন, মানিক মিয়া, শাহরিয়ার আলম ও ইমদাদুল হক জনি আহমদ।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: