ট্রফিহীন কিংবদন্তি: ডাচ ফুটবলের ট্র্যাজিক সৌন্দর্য ও তিন ফাইনালের আক্ষেপ
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু দল থাকে যাদের মাহাত্ম্য ট্রফি দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তারা হয়তো কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, কিন্তু তাদের খেলার শৈলী ফুটবল বিশ্বকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে না পারার এক অদ্ভুত ও ট্র্যাজিক ইতিহাস বহন করে চলেছে ডাচরা।
নেদারল্যান্ডসের এই বিশ্বকাপ আক্ষেপ শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। ইয়োহান ক্রুইফের নেতৃত্বে সেবার তারা বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দেয় ‘টোটাল ফুটবল’-এর সাথে। গতির সাথে পজিশন বদল আর আগ্রাসী প্রেসিংয়ের সেই ফুটবল বিপ্লব তখনকার সময়ের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে ছিল। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টিতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে হয় ডাচদের। সুন্দর ফুটবল খেললেও ট্রফিটা অধরাই থেকে যায়।
চার বছর পর ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার মাটিতে আবারও ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছায় নেদারল্যান্ডস। ইয়োহান ক্রুইফ দলে না থাকলেও লড়াই ছাড়েনি ডাচরা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না আসলে হয়তো ইতিহাস সেদিন অন্যভাবে লেখা হতো। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা জয়ী হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
দীর্ঘ ৩২ বছরের প্রতীক্ষার পর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আবারও ট্রফি জয়ের সুযোগ আসে নেদারল্যান্ডসের সামনে। স্পেনের বিপক্ষে সেই ফাইনালে আরিয়েন রোবেন গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে স্পেনের স্বপ্নপূরণ হলেও ডাচদের কপালে জোটে তৃতীয় ফাইনাল হারের ক্ষত। তিন প্রজন্মের তিনটি ভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ফাইনালে হারলেও তারা ফুটবলে যে প্রভাব রেখে গেছে, তা অনেক বিশ্বজয়ী দলের চেয়েও বেশি। নেদারল্যান্ডসের ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলে ট্রফিই সব নয়—কখনো কখনো ট্রফি ছাড়াও একটি দল কিংবদন্তি হয়ে থাকে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: