মৌলভীবাজারে হাওরে ধান কাটতে নামলেন চা শ্রমিকেরা
Led Bottom Ad

শ্রমিক সংকট

মৌলভীবাজারে হাওরে ধান কাটতে নামলেন চা শ্রমিকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

৩০/০৪/২০২৬ ২১:৪৯:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চা শ্রমিকেরা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা ঢলে আগাম বন্যার আশঙ্কায় যখন পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন রাজনগর উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে চা শ্রমিকেরা ধান কাটার কাজে যোগ দিয়েছেন।

রাজনগর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের অভাব এবং জ্বালানি তেলের সংকটে ধান মাড়াই ও কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন পার্শ্ববর্তী চা বাগানের ব্যবস্থাপকদের সাথে আলোচনা করে চা শ্রমিকদের হাওরে ধান কাটার জন্য আহ্বান জানায়। এরপরই বিভিন্ন চা বাগান থেকে শ্রমিকেরা দলবদ্ধভাবে হাওরে এসে কাজে যোগ দেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কাউয়াদিঘি হাওরের বেতাহুঞ্জা, মোজেফরপুর ও অন্তেহরি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে চা শ্রমিকেরা ধান কাটছেন।

কাউয়াদিঘি হাওর পারের কৃষক মেহদী হাসান ও সিতাব আলী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চা শ্রমিকদের সহযোগিতা না পেলে ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যেত। চা শ্রমিক শ্রীকুমার দেশওয়ালী জানান, কৃষকদের কষ্ট বুঝে তাঁরা নিজেদের কাজ শেষে এখানে এসে সাহায্য করছেন, এতে তাঁদের কিছু বাড়তি আয়ও হচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, পাম্প হাউসের মাধ্যমে পানি সেচ কার্যক্রম চালু থাকলেও লোডশেডিং ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সব পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় শ্রমিক সংকট নিরসনে চা শ্রমিকদের এই অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad