তদন্ত প্রতিবেদন
পুরাতন স্লিপার ও ত্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে মাধবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট রেললাইনে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে পুরাতন স্লিপার ও ত্রুটিপূর্ণ রেললাইনকে দায়ী করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দেওয়া উচ্চপর্যায়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে রেললাইনের অবকাঠামোগত ত্রুটির পাশাপাশি তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ওয়াগনগুলোর মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেল পরিবহন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। ফলে এ ধরনের দাহ্য পদার্থ পরিবহনে উন্নত মানের ও আধুনিক ওয়াগন ব্যবহার করা অপরিহার্য। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রেললাইনের স্লিপার ভালো মানের এবং ট্র্যাক আধুনিক হলে নির্ধারিত ৪০ কিলোমিটার গতিসীমায় চলাচলকারী ট্রেন সাধারণত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। মূলত দীর্ঘদিনের পুরাতন স্লিপার ও লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই বিচ্যুতি ঘটেছে বলে কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশন অতিক্রম করার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ট্রেনের ৫টি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হয়ে যায়। পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ২ লাখ ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল বহনকারী এই ট্রেনের ওয়াগনগুলো উল্টে গিয়ে প্রায় ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল নষ্ট হয়। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল।
ঘটনার পরদিন ২ এপ্রিল ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও কারিগরি নানা দিক পর্যালোচনার কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর তা জমা দেওয়া হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী লাইনের সংস্কার এবং ওয়াগনের মানোন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: