হবিগঞ্জে মানুষের শত্রুতার বলি ২৫ লাখ টাকার মাছ

থানায় অভিযোগ

হবিগঞ্জে মানুষের শত্রুতার বলি ২৫ লাখ টাকার মাছ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৭/০৭/২০২৬ ১৫:০৩:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের মৌজপুর গ্রামে দুই মৎস্যখামারির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।


ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যখামারিরা হলেন মৌজপুর গ্রামের সৈয়দ রফিকুল হোসাইন তানজির ও সৈয়দ হুছাইন আহমেদ নোমান। গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন সৈয়দ রফিকুল হোসাইন তানজির। 


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং আদাঐর ইউনিয়নের মৌজপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ রকিবুল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে নিজ পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিরোধের জেরে তার পুকুরে একাধিকবার ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন , গত ৫ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে টর্চলাইট নিয়ে পুকুরপাড়ে গেলে প্রতিবেশী সেলিম মিয়া ও সোহেল মিয়াকে সেখানে দেখতে পান। তিনি ডাক দিলে তাদের একজন হাতে থাকা একটি পলিথিন থেকে কোনো বস্তু পুকুরে নিক্ষেপ করে অপরজনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে দেখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাছ নিধনে ব্যবহৃত বলে দাবি করা প্রায় ১৫টি রাসায়নিকযুক্ত ট্যাবলেট ও একটি কালো পলিথিন উদ্ধার করা হয়। বিষক্রিয়ায় পুকুরের রুই, কাতলা, কার্প, তেলাপিয়া, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।  এছাড়াও তার চাচাতো ভাই সৈয়দ হুছাইন আহমেদ নোমানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।


ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়। স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।।


মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মো: সোহেল রানা বলেন-  খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় একটি লিখিত  অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে এমন নির্মম ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, “মাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

ফয়সল চৌধুরী/ আর আর

মন্তব্য করুন: