জৈন্তাপুরে বাঘ আতঙ্ক, নিঁখোজ হওয়া তিনটি গরুর মরদেহ উদ্ধার

জৈন্তাপুরে বাঘ আতঙ্ক, নিঁখোজ হওয়া তিনটি গরুর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

০৬/০৭/২০২৬ ২৩:২৫:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীপুর চা বাগান, গুচ্ছগ্রাম এলাকায় দেখা দিয়েছে বাঘ আতঙ্ক।  গত জুন মাসে আশুরার দিন হতে এ পর্যন্ত তিনটি গরু নিঁখোজ হওয়ার দু একদিন পর গরুগুলোকে চা বাগান এলাকায় মৃত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।


আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আলি আকবর জানান, শুধু গুচ্ছগ্রাম এলাকা হতে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ বড় ছোট গরু ঘাস খাওয়ার জন্য শ্রীপুর চা বাগান, জাম টিলা, খড়মপুড়টিলা সহ বিভিন্ন এলাকায় যায়। 


প্রতিদিন এসব গরুর মালিকরা গরুর পাল বেঁধে গরুগুলোকে গুচ্ছগ্রাম মেঘালয় ভ্যালী খেলার মাঠ হয়ে অনেক  শ্রীপুর চা বাগান এলাকার  ঘাস খেতে ছেড়ে দেয়।


এই চা বাগানের বিশাল এলাকা জুড়ে কোন জনবসতি নেই। গত মাতে আশুরার দিন গুচ্ছগ্রামের হারিকুস্তের একটি বড় গরু নিঁখোজ হয়। একদিন পর জামটিলা এলাকায় গরুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় গরুর মালিক। এ সময় গরুটির সারা দেহে আঁচড়ের দাগ ও গলায় কামড়ের দাগ দেখা যায়। গরুটির পেটের নরম অংশ খেয়ে গরুটি ফেলে যায় শিকারী পশুটি। 


এছাড়া দুই চারদিনের ব্যবধানে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলি ও আলেক মিয়ার দুইটি গরু নিঁখোজ হয়। নিঁখোজ হওয়ার একদিন পর খড়মপুড়টিলা এলাকায় একই ভাবে হিংস্র পশু কর্তৃক আক্রমণের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় গরু দুইটি। এ সময় মরা গরুর নিকটবর্তী স্হানে একটি শিয়াল ও একটি কুকুর মৃত অবস্থায় দেখতে পায় স্হানীয়রা। মৃত শিয়াল ও কুকুরটির গলায় ক্ষত চিন্হ দেখার দাবি করেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে মরা গরু খেতে আসা শিয়াল ও কুকুরটি শিকারী বাঘের আক্রমণে মারা গেছে। 


এদিকে গত ১০/১২ দিনে তিনটি গবাদিপশুর বাঘের আক্রমণে মৃত্যুতে স্হানীয় জনপদ দেখা দিয়েছে বাঘ আতঙ্ক। আলি আকবর আরো জানান, শ্রীপুর চা বাগান এলাকায় শিয়াল, বনবিড়াল ও মেছো বিড়াল আছে। কিন্তু প্রথমদিন যে গরুটি মারা যায় সেটি অনেক বড়। বাজারে লাখ টাকার উপরে দাম। ছোটখাটো বন্যপ্রানী এত বড় গরুকে আক্রমণ করে মারা অসম্ভব। তাছাড়া তিনটি মরা গরুর শরীলে আঁচড় ও আঘাতে চিন্হ দেখে বুঝা যায় কোন হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। 


এ বিষয়ে জৈন্তাপুর সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহলম ইসলামের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার ৭ই জুলাই দুপুর ২ ঘটিকায় ঘটনাস্থল তিনি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। 


এ সময় মৃত তিনটি গরুর নমুনা হিসেবে আঘাত ও ক্ষতের চিন্হের ছবি তুলে বন্য প্রানী গবেষণা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। সেখানে থেকে রিপোর্ট দিলে বিস্তারিত জানা যাবে।


তিনি আরো বলেন, শ্রীপুর চা বাগান এলাকা বা মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে মেছো বিড়াল, শিয়াল,বনবিড়াল  এগুলোর প্রচুর বিচরণ রয়েছে। কিন্তু একটা গরুর মত প্রানীকে আক্রমণ কিংবা আঘাত করার যোগ্যতা তাদের নেই। 


তিনি জানান, পাশ্ববর্তী মেঘালয় পাহাড়ের বনে এক সময় লেপার্ড প্রজাতির চিতাবাঘের বিচরণ ছিলো নিয়মিত। এখন সেগুলো বিলুপ্তপ্রায়। হতে পারে সীমান্ত অতিক্রম করে দলছুট কোন লেপার্ড শ্রীপুর চা বাগান এলাকায় অবস্থান নিতে পারে। এই ধরনের লেপার্ড প্রজাতির বাঘ নিশাচর হওয়ার দিনের আলোতে তাদের দেখা মিলে না। তিনি বলেন যেহেতু পৃথক তিনদিনে তিনটা পশু আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের একটু সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করার আহবান জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম বাবু / আর আর

মন্তব্য করুন: