ঈদগাহ মাঠ ভরাটে প্রতারণা
গোয়াইনঘাটে কাজ করেন গ্রামবাসী, সরকারি বিল তোলেন আলিম মেম্বার
ঈদগাহ মাট ভরাটের নামে সরকারি গম বরাদ্ধ হলেও খবর জানা নেই গ্রামবাসীর। তবুও থেমে থাকে নি কার্যক্রম। ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাটের কাজ করছেন নিজেরাই। এই প্রক্রিয়ায় গ্রামের কেউ স্বেচ্ছা শ্রম, কেউবা আর্থিক সহযোগীতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এই মহতি কাজে। কিন্তু গ্রামবাসীর এই কাজকে প্রকল্পের কাজ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি বরাদ্ধের পুরো বিল উত্তালন করে নেন গ্রামের এক ইউপি সদস্য। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে শুরু হয় নানা সমালোচনা। ঘটনাটি ঘটে গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের খুর্দ্দা মর্জাতপুর শাহী ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট কার্যক্রম নিয়ে।
জানাগেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঈদগাহ মাঠ ভরাটের জন্য ৭ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটির জন্য চলতি বছর বরাদ্দ প্রস্তাবিত হয় এবং ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন এর বাস্তবায়নকারী হিসেবে নাম দেন। কিন্তু মাঠ পরিদর্শনে কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, প্রকৃতপক্ষে সরকারি বরাদ্ধের কোনো কাজ ঈদগাহ মাঠে হয়নি। বরং গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজেদের অর্থ, শ্রম ও চাঁদা দিয়ে ঈদগাহ মাঠ ভরাট করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগকে সরকারিভাবে "সম্পন্ন প্রকল্প" হিসেবে দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের বিল উত্তোলন করেছেন ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন।
স্থানীয় যুবক মুবাশ্বির আলী জানান, গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে মাটি ভরাটের কাজের জন্য কালেকশন সংগ্রহ করে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সরকার থেকে নাকি দুই লাখ টাকা এসেছিল। সেই টাকার কোনো হিসাব নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই।”
একজন প্রবীণ মুরব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ঈদগাহে আমরা নামাজ পড়ি, দোয়া করি। এই পবিত্র জায়গার নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ টাকা তুলে নেয় এটা শুধু অন্যায় না, পাপও বটে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিনের বলেন, যারা বলেছে, কাজ হয় নি, তারা মিথ্যা বলেছে। বরাদ্দের টাকা শতভাগ মাটি ভরাট কাজে ব্যয় করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গোয়াইনঘাট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্ককর্তা বাধন কান্তি বলেন, এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে আলিম উদ্দিন বিল নিয়ছেন, কিন্তু গ্রামের অনেকেরই অভিযোগ এই বরাদ্দের টাকা ঈদগাহ কমিটির কাছে পৌছেনি, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো। এবং ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে বরাদ্দের টাকা যেভাবে পৌছে সেই ব্যবস্হা করবো।
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অর্থ আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: