‘সিলটি পাঞ্চায়িত’-এর সংবাদ সম্মেলন
সিলেটের স্বায়ত্তশাসন ও ‘সিলটি’কে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি
সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করাসহ বেশ কিছু দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’। শনিবার সিলেট নগরীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা তাঁদের দাবিসমূহ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে আহুত একটি জনসভায় পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ উত্থাপন করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৮ এপ্রিল সিলেটের স্বায়ত্তশাসন, ভাষাগত অধিকার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে তাঁরা একটি জনসভা করতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে অনুমতির আবেদন করা হলে পুলিশ প্রশাসন স্বায়ত্তশাসন ও ভাষা সংক্রান্ত দাবি দুটি বাদ দিয়ে জনসভা করার শর্ত দেয়। এর প্রতিবাদে ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ তাদের নির্ধারিত জনসভা স্থগিত ঘোষণা করে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সিলেটের স্বায়ত্তশাসন। তাঁরা যুক্তি দেখান যে, সিলেট দেশের একমাত্র বিভাগ যার বাংলা ভাষা ছাড়াও নিজস্ব ‘সিলটি নাগরী’ লিপি ও ভাষা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন এবং এই ভাষার ওপর উচ্চতর গবেষণামূলক ডক্টরেট ডিগ্রিও রয়েছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে তাঁরা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই প্রধান ভাষার পাশাপাশি দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা চালু আছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিলটি পাঞ্চায়িতের সাধারণ সম্পাদক তাজ রীহান জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার তাঁদের এই দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। অন্যথায় তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: