জলাতঙ্ক ও কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ
সিলেটে ৬ মাসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন সাড়ে ৬ হাজার মানুষ
সিলেট মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় কুকুরের উপদ্রব ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। গত ছয় মাসে শুধুমাত্র সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। কুকুরের বেপরোয়া বিচরণ এবং সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের তীব্র সংকটে এখন দিশেহারা সিলেটবাসী।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মোট ৬ হাজার ৫৪৮ জন আক্রান্ত ব্যক্তি এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০৭ জন কুকুরের কামড়ে এবং সিংহভাগ অর্থাৎ ৪ হাজার ৭৪১ জন বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বছরের শুরু থেকেই হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সরবরাহ অনিয়মিত। বর্তমানে ৭০০ ভায়াল সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারি মাসে সরবরাহ না থাকায় পুরোনো মজুত দিয়ে কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নগরীর পাড়া-মহল্লা ও স্কুল-বাজারের সামনে কুকুরের দলবদ্ধ অবস্থানের কারণে পথচারীরা সবসময় তটস্থ থাকেন। বিশেষ করে ভোরে মসজিদে যাওয়া মুসল্লি এবং সকালে স্কুলগামী শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কুকুরের ভয়ে শিশুরা একা স্কুলে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৬ সাল থেকে কুকুর নিধন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া জানান, লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিদেশি অনুদানের ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সিসিক’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় বর্তমানে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেও টিকার সংকট চলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জলাতঙ্কের লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে মৃত্যু অনিবার্য। তাই প্রাণিকুলের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: