সিলেটে ছাত্রীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
সিলেট নগরের আখালিয়া কালী বাড়ী এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রীকে মোবাইল চুরির অভিযোগে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এমসি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আখালিয়া কালী বাড়ী এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে শামীমাবাদ এলাকার একটি চায়ের দোকানে আটকে রাখা হয়। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত জিম্মি অবস্থায় রেখে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ সময় তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কানের দুল, গলার চেইন, পায়ের নুপুর এবং নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার বাসিন্দা ওই শিক্ষার্থী সিলেটে থাকতেন। কালী বাড়ী এলাকার সিফাত নামে এক ব্যক্তি তার বোনের মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে তাকে ধরে শামীমাবাদের কয়েকজন যুবকের কাছে তুলে দেন। পরে সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী প্রথমে ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাহস পান। তিনি নিজেই বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Congress for Bangladesh Minorities (HRCBM)–এর সিলেট চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক রাকেশ রায় ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: