সিলেটে ঘন ঘন লোডশেডিং : শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
সিলেট অঞ্চলে হঠাৎ করেই তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিগগিরই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এই লোডশেডিং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৩০ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও বাস্তবে অনেক এলাকায় দিনে ৬–৭ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা সরকারি হিসাবের তুলনায় বেশি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলেও উৎপাদন বাড়েনি। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক দোকান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করতে হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়াচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন অনেক অঞ্চলে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে, উৎপাদন ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: