পহেলা বৈশাখে সুনামগঞ্জে কন্যা সন্তানের জন্ম,পরিবারে খুশির জোয়ার
পহেলা বৈশাখের ভোর। রাঙা প্রভাতেই মায়ের কোল জুড়ে এলো এক সন্তান। এ যেন জীবনের সঙ্গে উৎসবের আনন্দও। বছরের প্রথম প্রহরেই এক সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম নিল এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান—যার আগমনে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে অপার আনন্দ, আবেগ আর কৃতজ্ঞতার সুর।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয় নবজাতকটি। মা ঝুমা আক্তার ও শিশুটি দুজনেই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। নবজাতকের ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজি।
নতুন অতিথিকে কোলে নিয়ে মা ঝুমা আক্তারের চোখে স্বপ্নের ঝিলিক—মেয়েকে মানুষ করার, তাকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার। আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আমার মেয়েকে মাস্টার বানাবো।” তার এই কথায় যেন মিশে আছে দারিদ্র্যের ভেতরেও বড় স্বপ্ন দেখার অদম্য সাহস।
রাজমিস্ত্রি বাবা মোমিন মিয়াও স্ত্রীর স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন দৃঢ়ভাবে। কষ্টের সংসার হলেও মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে পিছপা না হওয়ার প্রত্যয় তার কণ্ঠে স্পষ্ট। তিনি বলেন, “কষ্ট হলেও আমি মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করবো।”
এই দম্পতির ঘরে আগে থেকেই রয়েছে চার বছরের আরেক কন্যা সন্তান। এবার পহেলা বৈশাখের সকালে দ্বিতীয় মেয়ের আগমনে পরিবারে যেন আনন্দের দ্বিগুণ ঢেউ উঠেছে। দাদি শাহেদা বেগম নাতনির নাম রাখার দায়িত্ব নিয়ে যেন নতুন আনন্দে মেতে উঠেছেন—হাওরের ধান কাটার মৌসুমের এই সময়কে তিনি আশীর্বাদের মুহূর্ত বলেই মনে করছেন।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগম জানান, প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম নেয়, যা চিকিৎসা দিক থেকেও স্বস্তিদায়ক। মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছেন।
নবজাতককে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসা দাদার চোখেও আনন্দের অশ্রু। তিনি বলেন, একই বছরে ভালো ফসল আর পহেলা বৈশাখের সকালে নাতনির আগমন—সব মিলিয়ে যেন আল্লাহর অপার রহমত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে একটি নতুন প্রাণের আগমন যেন পুরো হাসপাতাল ও পরিবারটিকে আনন্দ, আশা আর নতুন স্বপ্নে ভরিয়ে দিয়েছে—যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক আবেগঘন গল্প হয়ে রইল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: