ইরানে যুদ্ধের ভয়াবহতা স্মৃতিতে নিয়ে দেশে ফিরলেন নবীগঞ্জের মামুন
“চারদিকে শুধু বোমার শব্দ আর আগুন। কারখানা থেকে বের হয়ে যেদিকেই তাকাচ্ছিলাম, সেদিকেই বড় বড় গর্ত আর ক্ষতচিহ্ন। তীব্র শব্দে আমার কানে সমস্যা হচ্ছে, এখন ঠিকমতো শুনতে পাই না। ঘুমের ঘোরে এখনো বোমার শব্দ শুনে আঁতকে উঠি।” ইরানে দীর্ঘ ১১ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে দেশে ফিরে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন মো. মামুন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মামুন গত ৭ এপ্রিল দেশে ফিরেছেন। গতকাল শুক্রবার নিজ বাড়িতে বসে তিনি জানান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। জীবিকার তাগিদে ১১ বছর আগে ওমান গিয়েছিলেন মামুন, সেখান থেকে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পাড়ি জমান ইরানে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ তাঁর সাজানো জীবন ও স্বপ্নকে ওলটপালট করে দিয়েছে। মামুন জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি, হাতে টাকা না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কেটেছে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মামুন বলেন, “যুদ্ধ শুরুর দিন কারখানায় কাজ করছিলাম। মেশিনের শব্দের মাঝে হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনতে পাই। বাইরে বের হয়ে দেখি শুধু আগুন আর মানুষের ছোটাছুটি। প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পাই। এরপর দীর্ঘ সময় এক কক্ষে বন্দি জীবন কেটেছে। মিসাইলের বিকট শব্দ আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় প্রতিটি মুহূর্ত মনে হতো এটাই শেষ সময়।” ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকও আসতেন না, ফলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
তবে ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর খবর শুনে আশার আলো দেখতে পান মামুন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতা আর দূতাবাসের সহযোগিতায় এই নরককুণ্ড থেকে জন্মভূমিতে ফেরার সৌভাগ্য হয়েছে। দেশের মাটিতে পা রাখার পর মনে হয়েছে আমি এক নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।” বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মামুন তাঁর পরিবারের সান্নিধ্যে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: