খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র অভাব
ভূমধ্যসাগরে হবিগঞ্জের দুই যুবকের সলিল সমাধি
ইতালির রঙিন স্বপ্ন নিয়ে উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে হবিগঞ্জের দুই যুবকের। খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র অভাবে নৌকাতেই নিভে গেছে তাঁদের প্রাণ। মৃতরা হলেন—হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে লুৎফুর রহমান তালুকদার (৪৫) এবং তাঁর ভায়রা ভাই লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ মিয়া (৪০)।
গ্রিসের শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা সহযাত্রী আকমল মিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সুদানি চালক পথ হারিয়ে ফেললে ছয় দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকে নৌকাটি। প্রচণ্ড পিপাসায় সমুদ্রের নোনা পানি পান করায় বিষক্রিয়ায় লুৎফুর ও জুনাইদসহ ১৭ জন যাত্রী মারা যান। সহযাত্রীরা মরদেহগুলো তীরে নিয়ে দাফন করতে চাইলেও পচন ধরায় এবং আইনি জটিলতার ভয়ে চালকরা বাধ্য হয়ে মরদেহগুলো সমুদ্রের জলেই ভাসিয়ে দেন।
লুৎফুর রহমানের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, রিচি গ্রামের দালাল আব্দুস সালামের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা চুক্তিতে গত ডিসেম্বরে তাঁরা লিবিয়া গিয়েছিলেন। ২১ মার্চ গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। বর্তমানে দালাল সালাম আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
স্বজন হারানোর এই খবরে শোকের মাতম চলছে সানাবই ও সিংহগ্রামে। লুৎফুর ও জুনাইদ উভয়েরই তিনটি করে সন্তান রয়েছে, যারা এখন বাবার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছে। সাবেক ইউপি সদস্য শাহনেওয়াজ অবিলম্বে অভিযুক্ত দালালকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রিয়জনের নিথর দেহটুকুও ছুঁতে না পারার বেদনায় দিশাহারা পরিবারগুলো এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার এই মরণফাঁদ রুখতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বর্তমানে পুরো এলাকায় এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: