ওনের মানে ১৭ বছরের রেকর্ড পতন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইঙ্গিতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে ব্যাপক পতন। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশীয় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিউল ও টোকিও; যেখানে বিক্রির চাপে সিউলের সূচক ৬ শতাংশ এবং টোকিওর সূচক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এছাড়া হংকংয়ের বাজারে ৩ শতাংশ এবং সাংহাই, তাইপেই ও ম্যানিলা ২ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। সিডনি, সিঙ্গাপুর এবং ওয়েলিংটনও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
মুদ্রাবাজারেও এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা 'ওন'-এর মান ডলারের বিপরীতে ১,৫১০-এ নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১০০ ডলারের সামান্য নিচে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চিত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে শেয়ারবাজারে এই রক্তক্ষরণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা
এ রহমান
মন্তব্য করুন: