রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন ইতিহাস

রেমিট্যান্সে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

প্রথম ডেস্ক

০১/০৭/২০২৬ ১৯:৪২:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন ইতিহাস গড়ে শেষ হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের যেকোনো অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।


বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ১২ মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স এই প্রথম।


বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, হুন্ডির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা এখন আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। এসব উদ্যোগই রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা শ্লথগতি দেখা যায়। প্রাথমিক হিসাবে জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও এ মাসে রেমিট্যান্স কিছুটা কম এসেছে।


অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে জুন মাসের রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।


সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠিয়েছিলেন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণের প্রবণতা কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সও স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।


মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার।


রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও ইতিবাচক ধারায় থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।


তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad