প্রথম স্বামী হবিগঞ্জে রেখে মৌলভীবাজারে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন তরুণী

থানায় মামলা ভুক্তভোগীর

প্রথম স্বামী হবিগঞ্জে রেখে মৌলভীবাজারে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন তরুণী

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৩/০৯/২০২৬ ০৩:২৫:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরে শাশুড়ির নগদ টাকা, স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের অলংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাছমিয়া আক্তার (কলি) নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ৩১ আগস্ট মৌলভীবাজার সদর থানাধীন দরগামহল্লা শেখ বাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।  এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মাজেদা বিবি অভিযুক্ত তাছমিয়া আক্তারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত তাছমিয়া আক্তার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের আব্দুল মুছাব্বিরের মেয়ে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাজেদা বিবির প্রবাসী ছেলে শাহ আলম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তাছমিয়া। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলের এক রিসোর্টে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ২৮ জানুয়ারি জেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করে প্রবাসী ছেলের পরিবার।

বিয়ের কিছুদিন পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাছমিয়া ইতিপূর্বেই হবিগঞ্জ শহরের তানভীর রাজ নামে অপর এক প্রবাসীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন (রেজিস্ট্রি তারিখ: ৩ ডিসেম্বর ২০২৪)। প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিয়ে তিনি শাহ আলমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তানভীর রাজের মা রমিজা বেগমও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারণার বিষয়টি পরিবারের সদস্যেরা জানতে পেরে তাছমিয়ার কাছে কৈফিয়ত চাইলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগে বলা হয়, তাছমিয়া তাঁদের গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি ও নানা ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে ঘরে থাকা নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের গয়না, জামাকাপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সটকে পড়েন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতারণার প্রমাণের অস্তিত্ব মেটাতে তাছমিয়া মুঠোফোন থেকে বিয়ের সব ছবি ও তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা চালান এবং প্রবাসী স্বামীসহ তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী মাজেদা বিবি এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad