সিসিক নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে বাড়ছে মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা
Led Bottom Ad

পিছিয়ে নেই জামায়াত

সিসিক নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে বাড়ছে মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯/০৩/২০২৬ ২১:৩১:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন আগ্রহী নেতারা।


শুরুর দিকে পাঁচ থেকে ছয়জন নেতার নাম শোনা গেলেও সর্বশেষ অন্তত ১২ জনের নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সিসিকের দুবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী–এর স্ত্রী সামা হক চৌধুরী–এর নাম হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে।


এ ছাড়া বর্তমান প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান চৌধুরী কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান, সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি এবং জেলা তাতীঁ দলের সভাপতি ফয়েজ আহমদ দৌলত।


সর্বশেষ সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২১ জুন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালের জুনে হওয়ার কথা ছিল।


তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অপসারণ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।


জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার জন্য নগরবাসীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছে সরকার।


এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ বাকি সিটি কর্পোরেশনগুলোতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।


নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার পরই ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে।


এদিকে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সিলেটের ৪২টি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে ভোটের হিসাব–নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন ২৬ দশমিক ৫০ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সিসিক এলাকার জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিসিকের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ সংসদীয় আসন–এর আওতাভুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ সংসদীয় আসন–এর আওতাভুক্ত ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।


এদিকে সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সিলেটের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad